✍️বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-১):
১. কোন্ শিলায় জীবাশ্ম পাওয়া যায়?
(ক) কাদাপাথর (খ) নিস (গ) গ্রানাইট (ঘ) ব্যাসল্ট।
উত্তর: (ক) কাদাপাথর।
২. আগ্নেয় শিলার একটি উদাহরণ কী?
(ক) বেলেপাথর (খ) চুনাপাথর (গ) মার্বেল (ঘ) ব্যাসল্ট।
উত্তর: (ঘ) ব্যাসল্ট।
৩. অ্যানথ্রাসাইট কয়লা রূপান্তরিত হয়ে কোন্ শিলা তৈরি করে?
(ক) গ্রানাইট (খ) গ্রাফাইট (গ) কোয়ার্টজাইট (ঘ) অ্যাম্ফিবোলাইট।
উত্তর: (খ) গ্রাফাইট।
৪. লাভা জমাটবদ্ধ হয়ে কোন্ শিলা গঠিত হয়?
(ক) মার্বেল (খ) ব্যাসল্ট (গ) বেলেপাথর (ঘ) স্লেট।
উত্তর: (খ) ব্যাসল্ট।
৫. যে শিলা থেকে কালো মাটি সৃষ্টি হয়, তা কোন্টি?
(ক) গ্রানাইট (খ) চুনাপাথর (গ) ব্যাসল্ট (ঘ) বেলেপাথর।
উত্তর: (গ) ব্যাসল্ট।
৬. চুনাপাথরের রূপান্তরিত রূপ কোনটি?
(ক) কোয়ার্টজাইট (খ) মারবেল (গ) হর্নব্লেন্ড।
উত্তর: (খ) মারবেল।
৭. একপ্রকার বালুকাময় পাললিক শিলার উদাহরণ কী?
(ক) চুনাপাথর (খ) বেলেপাথর (গ) কাদাপাথর।
উত্তর: (খ) বেলেপাথর।
৮. খনিজের কাঠিন্য পরিমাপ করা হয় যে স্কেলের সাহায্যে, তা কী?
(ক) মার্কারি স্কেল (খ) মোহ স্কেল (গ) রিখটার স্কেল।
উত্তর: (খ) মোহ স্কেল।
৯. ‘নিস’ কোন্ ধরনের শিলা?
(ক) আগ্নেয় শিলা (খ) পাললিক শিলা (গ) রূপান্তরিত শিলা।
উত্তর: (গ) রূপান্তরিত শিলা।
১০. জয়সলমেরের সোনার কেল্লা কোন্ শিলা দিয়ে তৈরি?
(ক) চুনাপাথর (খ) বেলেপাথর (গ) কাদাপাথর।
উত্তর: (খ) বেলেপাথর।
১১. ব্যাসল্ট শিলার রূপান্তরিত রূপ কী?
(ক) অ্যাম্ফিবোলাইট (খ) ফিলাইট (গ) হর্নব্লেন্ড।
উত্তর: (ক) অ্যাম্ফিবোলাইট।
১২. ক্যালশিয়াম সালফেটের জলযুক্ত একটি কেলাস কী?
(ক) কোয়ার্টজ (খ) জিপসাম (গ) অভ্র।
উত্তর: (খ) জিপসাম।
১৩. খনিজের কাঠিন্য পরিমাপ করার স্কেলের নাম কী?
(ক) মার্কারি স্কেল (খ) মোহ স্কেল (গ) রিখটার স্কেল।
উত্তর: (খ) মোহ স্কেল।
১৪. চুনাপাথরের রূপান্তরিত শিলা কী?
(ক) কোয়ার্টজাইট (খ) মারবেল (গ) হর্নব্লেন্ড।
উত্তর: (খ) মারবেল।
১৫. বেলেপাথর রূপান্তরিত হয়ে যে শিলা তৈরি হয়, তা কী?
(ক) কোয়ার্টজাইট (খ) মারবেল (গ) স্লেট।
উত্তর: (ক) কোয়ার্টজাইট।
১৬. গ্রানাইট শিলা রূপান্তরিত হয়ে কোন্ শিলায় পরিণত হয়?
(ক) নিস (খ) মারবেল (গ) কোয়ার্টজাইট।
উত্তর: (ক) নিস।
১৭. ভূগর্ভের চাপ ও তাপে উদ্ভিদের কাণ্ডে সঞ্চিত কার্বন স্তরীভূত হয়ে প্রাথমিকভাবে কী তৈরি হয়?
(ক) কয়লা (খ) খনিজ তেল (গ) প্রাকৃতিক গ্যাস।
উত্তর: (ক) কয়লা।
১৮. যে শিলায় গঠিত অঞ্চলের ভূমিরূপগুলি সাধারণত গোলাকার হয়, সেটি কী?
(ক) গ্রানাইট (খ) ব্যাসল্ট (গ) কংগ্লোমারেট।
উত্তর: (ক) গ্রানাইট।
১৯. জীবাশ্ম সাধারণত কোন্ ধরনের শিলায় পাওয়া যায়?
(ক) আগ্নেয় শিলা (খ) পাললিক শিলা (গ) রূপান্তরিত শিলা।
উত্তর: (খ) পাললিক শিলা।
২০. আঞ্চলিক বা ব্যাপক রূপান্তরের ফলে গঠিত শিলা কোনটি?
(ক) ফিলাইট (খ) স্লেট (গ) সিস্ট।
উত্তর: (খ) স্লেট।
২১. চুনাপাথর কোন্ ধরনের শিলা?
(ক) সংঘাত শিলা (খ) অসংঘাত শিলা (গ) কর্দময় শিলা।
উত্তর: (খ) অসংঘাত শিলা।
২২. শিলার মধ্যেকার শূন্যস্থান ও শিলার মোট আয়তনের অনুপাত কী নামে পরিচিত?
(ক) সচ্ছিদ্রতা (খ) প্রবেশ্যতা (গ) দারণ।
উত্তর: (ক) সচ্ছিদ্রতা।
২৩. ভূগর্ভের চাপ ও তাপে উদ্ভিদের কাণ্ডে সঞ্চিত কার্বন স্তরীভূত হয়ে প্রাথমিকভাবে কী তৈরি হয়?
(ক) কয়লা (খ) খনিজ তেল (গ) প্রাকৃতিক গ্যাস।
উত্তর: (ক) কয়লা।
২৪. একপ্রকার বালুকাময় পাললিক শিলার উদাহরণ কী?
(ক) চুনাপাথর (খ) বেলেপাথর (গ) কাদাপাথর।
উত্তর: (খ) বেলেপাথর।
২৫. ব্যাসল্ট শিলার রূপান্তরিত রূপ কী?
(ক) অ্যাম্ফিবোলাইট (খ) ফিলাইট (গ) হর্নব্লেন্ড।
উত্তর: (ক) অ্যাম্ফিবোলাইট।
২৬. ‘নিস’ কোন্ ধরনের শিলা?
(ক) আগ্নেয় শিলা (খ) পাললিক শিলা (গ) রূপান্তরিত শিলা।
উত্তর: (গ) রূপান্তরিত শিলা।
২৭. বেলেপাথর রূপান্তরিত হয়ে যে শিলা তৈরি হয়, তা কী?
(ক) কোয়ার্টজাইট (খ) মারবেল (গ) স্লেট।
উত্তর: (ক) কোয়ার্টজাইট।
২৮. তাজমহল নির্মাণে ব্যবহৃত শিলা কোনটি?
(ক) বেলেপাথর (খ) চুনাপাথর (গ) মারবেল।
উত্তর: (গ) মারবেল।
২৯. ডোলেরাইট কোন্ ধরনের শিলা?
(ক) রূপান্তরিত শিলা (খ) পাললিক শিলা (গ) আগ্নেয় শিলা।
উত্তর: (গ) আগ্নেয় শিলা।
৩০. মোহ স্কেল অনুযায়ী হিরের কাঠিন্যের মান কত?
(ক) ১০ (খ) ৯ (গ) ৮।
উত্তর: (ক) ১০।
৩১. সেরামিক শিল্পে কোন্ খনিজ ব্যবহৃত হয়?
(ক) অভ্র (খ) সোনা (গ) ফেল্ডসপার।
উত্তর: (গ) ফেল্ডসপার।
৩২. সাদা রঙের প্ল্যাজিওক্লেজ ফেল্ডসপারের প্রধান উপাদান কী?
(ক) পটাশিয়াম (খ) সোডিয়াম (গ) ম্যাগনেশিয়াম।
উত্তর: (খ) সোডিয়াম।
৩৩. পাতালিক শিলার একটি উদাহরণ কী?
(ক) ব্যাসল্ট (খ) ডোলেরাইট (গ) গ্রানাইট।
উত্তর: (গ) গ্রানাইট।
৩৪. ফিলাইট কোন্ শিলার পরিবর্তিত রূপ?
(ক) স্লেট (খ) ব্যাসল্ট (গ) পিট।
উত্তর: (ক) স্লেট।
৩৫. আঞ্চলিক বা ব্যাপক রূপান্তরের ফলে গঠিত শিলা কোনটি?
(ক) ফিলাইট (খ) স্লেট (গ) সিস্ট।
উত্তর: (খ) স্লেট।
৩৬. মোহ স্কেল অনুসারে সর্বনিম্ন কঠিন খনিজ কোনটি?
(ক) কোয়ার্টজ (খ) ফেল্ডসপার (গ) ট্যাল্ক।
উত্তর: (গ) ট্যাল্ক।
৩৭. গোলাপি রঙের অর্থোক্লেজ ফেল্ডসপারের মূল উপাদান কী?
(ক) ক্যালশিয়াম (খ) সোডিয়াম (গ) পটাশিয়াম।
উত্তর: (গ) পটাশিয়াম।
৩৮. ডোলেরাইট কোন্ ধরনের শিলা?
(ক) রূপান্তরিত শিলা (খ) পাললিক শিলা (গ) আগ্নেয় শিলা।
উত্তর: (গ) আগ্নেয় শিলা।
✍️অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-১):
১. একটি মধ্যবর্তী শিলার নাম লেখো এবং এতে ক্ষারকীয় অক্সাইডের পরিমাণ কত?
উত্তর:- একটি মধ্যবর্তী শিলা হল অ্যান্ডেসাইট, যাতে ক্ষারকীয় অক্সাইডের পরিমাণ ৪৫%-৫৫%।
২. কোন কোন খনিজে কেলাসের গঠন স্পষ্টভাবে দেখা যায়?
উত্তর:- কোয়ার্টজ, টোপ্যাজ, ব্যালসাইট ও হিরেতে কেলাসের গঠন ভালোভাবে দেখা যায়।
৩. উদ্বেধী আগ্নেয় শিলা কয় প্রকার?
উত্তর:- উদ্বেধী আগ্নেয় শিলা দুই প্রকার— উপপাতালিক ও পাতালিক শিলা।
৪. নিঃসারী আগ্নেয় শিলার দানাগুলো সূক্ষ্ম হয় কেন?
উত্তর:- এই শিলা দ্রুত ঠান্ডা হয়ে জমাট বাঁধে, ফলে দানাগুলো সূক্ষ্ম হয়।
৫. আগ্নেয় শিলার আরেক নাম কী এবং কেন?
উত্তর:- আগ্নেয় শিলাকে প্রাথমিক বা আদিশিলা বলা হয়, কারণ এটি পৃথিবীর প্রথম গঠিত শিলা।
৬. মিনরেলজি কী?
উত্তর:- বিজ্ঞানের যে শাখায় খনিজের গঠন, বৈশিষ্ট্য ও শ্রেণিবিন্যাস নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাকে মিনরেলজি বলে।
৭. পেট্রোলজি কী?
উত্তর:- বিজ্ঞানের যে শাখায় শিলা ও তাদের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোচনা করা হয়, তাকে পেট্রোলজি বলে।
৮. সমসত্ত্ব ও অসমসত্ত্ব মিশ্রণের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর:- সমসত্ত্ব মিশ্রণে উপাদানগুলো সব জায়গায় একই অনুপাতে থাকে, আর অসমসত্ত্ব মিশ্রণে বিভিন্ন স্থানে উপাদানগুলোর অনুপাত ভিন্ন হতে পারে।
৯. গ্রানাইট শিলা কোন কোন খনিজ দ্বারা গঠিত?
উত্তর:- গ্রানাইট শিলা কোয়ার্টজ, ফেল্ডসপার, মাইকা ও হর্নব্লেন্ড খনিজ দ্বারা গঠিত।
১০. শিলা কী?
উত্তর:- শিলা এক বা একাধিক খনিজের সমসত্ত্ব বা অসমসত্ত্ব মিশ্রণ।
১১. একটি লৌহপ্রস্তর জাতীয় পাললিক শিলার নাম লেখো।
উত্তর:- হেমাটাইট।
১২. কোন শিলান্তরে খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়?
উত্তর:- সচ্ছিদ্র পাললিক শিলাস্তরে খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়।
১৩. কোন পাথরের প্রবেশ্যতা সবচেয়ে বেশি?
উত্তর:- বেলেপাথরের প্রবেশ্যতা সবচেয়ে বেশি।
১৪. পাতালিক শিলার দানার ব্যাস কত?
উত্তর:- ৩ মিলিমিটারের বেশি।
১৫. ক্ষারকীয় শিলায় ক্ষারকীয় অক্সাইডের পরিমাণ কত?
উত্তর:- ৫৫%-এর বেশি।
১৬. নিঃসারী শিলার দানার ব্যাস কত?
উত্তর:- ১ মিলিমিটারের কম।
১৭. আগ্নেয় শিলায় শতকরা কত ভাগ সিলিকা থাকে?
উত্তর:- ৬৫%-এর বেশি।
১৮. একটি উপপাতালিক শিলার নাম লেখো।
উত্তর:- ডোলেরাইট।
১৯. একটি নিঃসারী আগ্নেয় শিলার নাম লেখো।
উত্তর:- ব্যাসল্ট।
২০. চুনাপাথরযুক্ত অঞ্চলে কেন বহুতল ভবন ও রাস্তাঘাট নির্মাণ করা উচিত নয়?
উত্তর:- চুনাপাথরযুক্ত অঞ্চলে ভূমির নিচে গুহা বা ফাঁকা স্থান তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা ভবিষ্যতে ধসে পড়তে পারে। তাই সেখানে বহুতল ভবন ও রাস্তাঘাট নির্মাণ করা নিরাপদ নয়।
২১. দাক্ষিণাত্য মালভূমির ডেকান ট্র্যাপ অংশে কোন ধরনের ভূমিরূপ দেখা যায়?
উত্তর:- মহারাষ্ট্রের পঞ্চগণি ও মহাবালেশ্বর অঞ্চলে সমতল মাথা বিশিষ্ট টেবিলের মতো ভূমিরূপ দেখা যায়, যা ডেকান ট্র্যাপের অংশ।
২২. গ্রানাইট শিলা কোথায় পাওয়া যায়?
উত্তর:- রাঁচিসহ সমগ্র ছোটোনাগপুর মালভূমি প্রধানত গ্রানাইট শিলায় গঠিত।
২৩. রাস্তাঘাট নির্মাণে কোন শিলা ব্যবহৃত হয়?
উত্তর:- রূপান্তরিত শিলা নিস রাস্তাঘাট নির্মাণে ব্যবহৃত হয়।
২৪. ব্ল্যাকবোর্ডে লেখার জন্য কোন শিলা ব্যবহৃত হয়?
উত্তর:- ব্ল্যাকবোর্ডে লেখার জন্য রূপান্তরিত শিলা শ্লেট ব্যবহৃত হয়।
২৫. পিট কয়লা কীতে রূপান্তরিত হয়?
উত্তর:- পিট কয়লা গ্রাফাইটে রূপান্তরিত হয়।
২৬. ফিলাইট কী?
উত্তর:- ফিলাইট এক ধরনের রূপান্তরিত কাদামাটি জাতীয় শিলা।
২৭. শেল কীভাবে প্লেটে পরিণত হয়?
উত্তর:- শেল প্রচণ্ড চাপের ফলে রূপান্তরিত হয়ে শ্লেটে পরিণত হয়।
২৮. লালকেল্লা, খাজুরাহোর মন্দির ও সোনার কেল্লা কোন শিলা দিয়ে তৈরি?
উত্তর:- এগুলো বেলেপাথর দিয়ে তৈরি।
২৯. চুনাপাথর কী কী কাজে ব্যবহৃত হয়?
উত্তর:- চুনাপাথর সিমেন্ট তৈরিতে ও লৌহ-ইস্পাত শিল্পে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
৩০. চুনাপাথরের রাসায়নিক নাম কী?
উত্তর:- চুনাপাথরের রাসায়নিক নাম ক্যালসিয়াম কার্বনেট।
৩১. একটি কার্বনসম পাললিক শিলার নাম লেখো।
উত্তর:- বিটুমিনাস কয়লা।
৩২. ডায়াটম মাটি কী?
উত্তর:- এটি জৈবিক উপায়ে গঠিত বালিময় পাললিক শিলা।
৩৩. রাসায়নিক উপায়ে গঠিত সালফেট জাতীয় পাললিক শিলার নাম লেখো।
উত্তর:- রক জিপসাম।
৩৪. পাইরোক্লাস্টিক শিলার একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর:- টাফ।
৩৫. তা কী?
উত্তর:- তা হলো শিলার শূন্যস্থান এবং মোট আয়তনের অনুপাত।
৩৬. শিলার প্রবেশ্যতা বলতে কী বোঝায়?
উত্তর:- শিলার মধ্যে তরল বা গ্যাসীয় পদার্থ প্রবেশ করার ক্ষমতাকে শিলার প্রবেশ্যতা বলে।
৩৭. ব্যাসল্ট গঠনকারী প্রধান খনিজ কী কী?
উত্তর:- ব্যাসল্ট গঠনকারী প্রধান খনিজ হলো কোয়ার্টজ, ফেল্ডসপার, অলিভিন ও পাইরোক্সিন।
৩৮. বিশ্বারলাইট কী ধরনের শিলা?
উত্তর:- বিশ্বারলাইট একটি অভিক্ষারকীয় শিলা।
৩৯. পেরিডোটাইট শিলায় সিলিকার পরিমাণ কত?
উত্তর:- পেরিডোটাইট শিলায় সিলিকার পরিমাণ ৪৫%-এর কম।
৪০. স্তরীভূত শিলায় প্রাণী বা উদ্ভিদের যে ছাপ পাওয়া যায়, তাকে কী বলে?
উত্তর:- জীবাশ্ম।
৪১. ব্ল্যাকবোর্ড তৈরিতে কোয়ার্টজাইট ব্যবহৃত হয়। [সত্য/মিথ্যা নির্বাচন করো]
উত্তর:- মিথ্যা।
৪২. বাড়ির টালি তৈরিতে কোন শিলা ব্যবহৃত হয়? কেন?
উত্তর:- বাড়ির টালি তৈরিতে কাদাপাথর ব্যবহৃত হয়, কারণ এটি নরম ও ভঙ্গুর প্রকৃতির এবং সহজেই পাতলা স্তরে বিভক্ত হতে পারে।
৪৩. ল্যাটেরাইট মাটি কীভাবে গঠিত হয়?
উত্তর:- লোহা ও অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইডের আধিক্যের কারণে ল্যাটেরাইট মাটি গঠিত হয়।
৪৪. মার্বেলের সংস্পর্শে অ্যাসিডযুক্ত জল আনা উচিত নয় কেন?
উত্তর:- অ্যাসিডের সংস্পর্শে মার্বেল দ্রুত ক্ষয়ে যায়, তাই এটি এড়ানো উচিত।
৪৫. খনিজ কী?
উত্তর:- শিলার মধ্যে থাকা নির্দিষ্ট রাসায়নিক গঠন ও পারমাণবিক বিন্যাসযুক্ত কঠিন মৌল বা যৌগকে খনিজ বলে।
৪৬. ভারতের খনিজ সম্পদের ভাণ্ডার বলা হয় কাকে?
উত্তর:- ছোটোনাগপুর মালভূমিকে ভারতের খনিজ সম্পদের ভাণ্ডার বলা হয়।
৪৭. ব্যান্ডেড নিস কাকে বলে?
উত্তর:- নিস শিলায় অনেক সময় খনিজগুলি বলয় আকৃতিতে সাজানো থাকে, তখন তাকে ব্যান্ডেড নিস বলা হয়।
৪৮. স্ট্যালাগমাইট কী?
উত্তর:- গুহার ছাদ থেকে চুঁইয়ে পড়া পানির খনিজ পদার্থ জমে মাটির ওপর স্তম্ভের মতো গঠন তৈরি করলে তাকে স্ট্যালাগমাইট বলে।
৪৯. কেলাসের গঠন দেখতে কেমন হয়?
উত্তর:- কেলাসের গঠন চিনির দানা বা মিছরির টুকরোর মতো হয়।
৫০. মাটি সৃষ্টির পূর্ববর্তী ক্ষয়প্রাপ্ত শিলাচূর্ণকে কী বলা হয়?
উত্তর:- একে রেগোলিথ বলা হয়।
৫১. গ্রানাইট শিলা থেকে উৎপন্ন মাটির রং লাল কেন হয়?
উত্তর:- লোহার অক্সাইডের আধিক্যের কারণে গ্রানাইট থেকে উৎপন্ন মাটির রং লাল হয়।
৫২. অতিরিক্ত খনিজযুক্ত মাটির নাম কী?
উত্তর:- ল্যাটেরাইট মাটি ও লাল মাটি।
৫৩. জিপসামযুক্ত অঞ্চলের ভূমির বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর:- জিপসামযুক্ত অঞ্চলের মাটি নরম ও হালকা হলুদ রঙের হয়।
৫৪. মোহস্কেল অনুসারে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন কঠিন খনিজের নাম কী?
উত্তর:- সর্বোচ্চ কঠিন খনিজ হলো হিরে এবং সর্বনিম্ন কঠিন খনিজ হলো ট্যাল্ক।
৫৫. মোহ স্কেল কী?
উত্তর:- খনিজের কঠিনতা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত স্কেলকে মোহ স্কেল বলে। এটি ১ থেকে ১০ পর্যন্ত দশটি স্তরে বিভক্ত।
৫৬. একটি নরম খনিজের নাম বলো।
উত্তর:- জিপসাম।
৫৭. ফেল্ডসপার কী কাজে ব্যবহৃত হয়?
উত্তর:- ফেল্ডসপার প্রধানত কাঁচ ও সিরামিক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
৫৮. অর্থোক্লেজ ফেল্ডসপারের মূল উপাদান কী? এটি কী রঙের হয়?
উত্তর:- এর মূল উপাদান পটাশিয়াম এবং এটি সাধারণত গোলাপি রঙের হয়।
৫৯. প্লাজিওক্লেজ ফেল্ডসপারের প্রধান রাসায়নিক উপাদান কী?
উত্তর:- প্লাজিওক্লেজ ফেল্ডসপারের প্রধান রাসায়নিক উপাদান সোডিয়াম।
৬০. কোয়ার্টজ কী কাজে ব্যবহৃত হয়?
উত্তর:- কোয়ার্টজ গহনা তৈরিতে, কাচ তৈরিতে এবং পাথর কাটার কাজে ব্যবহৃত হয়।
৬১. শিলা গঠনকারী দুটি প্রধান খনিজের নাম বলো।
উত্তর:- সিলিকন ও অক্সিজেন।
৬২. পাললিক শিলার দুটি উদাহরণ কী?
উত্তর:- কাদাপাথর ও বেলেপাথর।
৬৩. ব্যাসল্ট শিলা থেকে কোন মৃত্তিকা তৈরি হয়?
উত্তর:- কালোমাটি বা কৃষমৃত্তিকা।
৬৪. প্রকৃতিতে শিলার উৎপত্তি ও এক শিলা থেকে অন্য শিলায় পরিবর্তন একটি চক্রাকার প্রক্রিয়ায় ঘটে, এই চক্রকে কী বলে?
উত্তর:- শিলাচক্র।
৬৫. পৃথিবীর কঠিন আবরণকে কী বলা হয়?
উত্তর:- শিলা।
৬৬. ব্যাসল্ট কোন জাতীয় শিলা?
উত্তর:- আগ্নেয় শিলা।
৬৭. ছাদ ঢালাইয়ের কাজে ব্যবহৃত স্টোনচিপ আসলে কোন শিলা থেকে তৈরি?
উত্তর:- ব্যাসল্ট শিলা।
৬৮. আগ্নেয় শিলার প্রবেশ্যতা বেশি হয়। [সত্য/মিথ্যা নির্বাচন করো]
উত্তর:- মিথ্যা।
৬৯. প্রধানত কোন শিলা থেকেই অন্য সব শিলার উৎপত্তি হয়েছে?
উত্তর:- আগ্নেয় শিলা।
৭০. ভারতের ‘খনিজ ভাণ্ডার’ বলা হয় কোন অঞ্চলকে?
উত্তর:- ছোটোনাগপুর মালভূমি।
৭১. কোন শিলায় পাইরক্সিন খনিজ থাকে?
উত্তর:- ব্যাসল্ট শিলা।
৭২. বেলেপাথর থেকে কোন ধরনের মাটি তৈরি হয়?
উত্তর:- বেলেমাটি।
৭৩. রাজস্থানের জয়সলমেরে অবস্থিত ‘সোনার কেল্লা’ চুনাপাথর দিয়ে তৈরি কারণ এটি শুধুমাত্র শুষ্ক জলবায়ুর জন্য উপযুক্ত। [সত্য/মিথ্যা নির্বাচন করো]
উত্তর:- মিথ্যা।
৭৪. পাললিক শিলাস্তরে ধাতব খনিজ বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়। [সত্য/মিথ্যা নির্বাচন করো]
উত্তর:- মিথ্যা।
৭৫. গ্রাফাইট কোন ধরনের শিলা?
উত্তর:- রূপান্তরিত শিলা।
৭৬. প্রধানত কোন শিলা থেকেই অন্য সব শিলার উৎপত্তি হয়েছে?
উত্তর:- আগ্নেয় শিলা।
৭৭. আগ্নেয় শিলাস্তরে কয়লা ও খনিজ তেল পাওয়া যায়। [সত্য/মিথ্যা নির্বাচন করো]
উত্তর:- মিথ্যা।
৭৮. লালকেল্লা কোন ধরনের শিলা দিয়ে তৈরি?
উত্তর:- বেলেপাথর।
৭৯. ভূত্বক গঠনের সময় যে শিলা প্রথমে সৃষ্টি হয়, তাকে কী বলা হয়?
উত্তর:- আগ্নেয় শিলা।
৮০. একটি উপপাতালিক শিলার উদাহরণ কী?
উত্তর:- ডোলেরাইট।
৮১. শিলা হল এক বা একাধিক খনিজের সমসত্ত্ব ও অসমসত্ত্ব মিশ্রণ। [সত্য/মিথ্যা নির্বাচন করো]
উত্তর:- সত্য।
৮২. কোয়ার্টজ কাচ ও পাথর কাটতে বেশি ব্যবহৃত হয়। [সত্য/মিথ্যা নির্বাচন করো]
উত্তর:- সত্য।
৮৩. উৎপত্তির ভিত্তিতে আগ্নেয় শিলা কয় প্রকার?
উত্তর:- উৎপত্তির ভিত্তিতে আগ্নেয় শিলা দুই প্রকার।
৮৪. কোন শিলা থেকে বেলেমাটি তৈরি হয়?
উত্তর:- বেলেপাথর থেকে।
৮৫. পাতালিক শিলা কী?
উত্তর:- ভূগর্ভের অনেক নিচে গলিত পদার্থ দীর্ঘ সময় ধরে শীতল হয়ে জমাট বাঁধলে যে শিলা তৈরি হয়, তাকে পাতালিক শিলা বলে। যেমন—গ্রানাইট।
৮৬. প্রকৃতিতে শিলার উৎপত্তি ও এক শিলা থেকে অন্য শিলায় পরিবর্তন একটি চক্রাকার প্রক্রিয়ায় ঘটে, এই চক্রকে কী বলে?
উত্তর:- শিলাচক্র।
৮৭. স্তরীভূত শিলায় প্রাণী বা উদ্ভিদের যেসব ছাপ পাওয়া যায়, তাদের কী বলা হয়?
উত্তর:- জীবাশ্ম।
৮৮. বেলেমাটি কৃষিকাজের জন্য কতটা উপযোগী?
উত্তর:- বেলেমাটি কৃষিকাজের জন্য খুব বেশি উপযোগী নয়।
৮৯. ব্যাসল্ট শিলার গঠিত মাটির রং সাধারণত কী হয়?
উত্তর:- ব্যাসল্ট শিলার গঠিত মাটির রং সাধারণত কালো হয়।
৯০. ভূত্বক গঠনের সময় যে শিলা প্রথমে সৃষ্টি হয়, তাকে কী বলা হয়?
উত্তর:- আগ্নেয় শিলা।
✍️সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-২):
১. শিলার প্রবেশ্যতা বলতে কী বোঝায়?
উত্তর:- শিলার প্রবেশ্যতা বলতে শিলার ভেতর দিয়ে তরল বা গ্যাসীয় পদার্থ প্রবাহিত হওয়ার ক্ষমতাকে বোঝানো হয়।
২. একটি মধ্যবর্তী শিলার উদাহরণ দাও এবং এতে ক্ষারকীয় অক্সাইডের পরিমাণ কত?
উত্তর:- একটি মধ্যবর্তী শিলা হল অ্যান্ডেসাইট, যাতে ক্ষারকীয় অক্সাইডের পরিমাণ ৪৫% - ৫৫%।
৩. কোন কোন খনিজে কেলাসের গঠন স্পষ্টভাবে দেখা যায়?
উত্তর:- কোয়ার্টজ, টোপ্যাজ, ব্যালসাইট ও হিরেতে কেলাসের গঠন স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
৪. উদ্বেদী আগ্নেয় শিলা কয় প্রকার এবং কী কী?
উত্তর:- উদ্বেদী আগ্নেয় শিলা দুই ধরনের হয়— উপপাতালিক শিলা ও পাতালিক শিলা।
৫. মিনারেলজি কী?
উত্তর:- বিজ্ঞানের যে শাখায় খনিজের গঠন, বৈশিষ্ট্য ও শ্রেণিবিন্যাস নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাকে মিনারেলজি বলে।
৬. পেট্রোলজি কী?
উত্তর:- বিজ্ঞানের যে শাখায় শিলা, তাদের গঠন, প্রকৃতি ও শ্রেণিবিন্যাস নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাকে পেট্রোলজি বলে।
৭. সমসত্ত্ব ও অসমসত্ত্ব মিশ্রণের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর:- সমসত্ত্ব মিশ্রণে উপাদানগুলো সব জায়গায় সমান অনুপাতে থাকে, whereas অসমসত্ত্ব মিশ্রণে উপাদানগুলোর অনুপাত স্থানভেদে পরিবর্তিত হয়।
৮. রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় গঠিত সালফেট জাতীয় পাললিক শিলার নাম কী?
উত্তর:- রাসায়নিক উপায়ে গঠিত সালফেট জাতীয় পাললিক শিলা হল রক জিপসাম।
৯. দাক্ষিণাত্য মালভূমির ডেকান ট্র্যাপ-এর অন্তর্ভুক্ত ভূমিরূপ কোনটি?
উত্তর:- মহারাষ্ট্রের পঞ্চগণি ও মহাবালেশ্বর অঞ্চলের চ্যাপ্টা শীর্ষবিশিষ্ট টেবিল আকৃতির ভূমিরূপগুলি ডেকান ট্র্যাপের অংশ।
১০. আগ্নেয় শিলার আরেক নাম কী এবং কেন?
উত্তর:- আগ্নেয় শিলার আরেক নাম প্রাথমিক বা আদিশিলা। কারণ, পৃথিবীতে প্রথম যে শিলা সৃষ্টি হয়েছিল, সেটি আগ্নেয় শিলা।
১১. ভারঢল কাকে বলে?
উত্তর:- পাললিক শিলার স্তরগুলো একটির ওপর আরেকটি জমা হয় এবং যে তলের মাধ্যমে এক স্তর অপর স্তরের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাকে স্তরায়ন তল বা ভারঢল বলে।
১২. স্ট্যালাগটাইট কাকে বলে?
উত্তর:- চুনাপাথরের গুহার ছাদ থেকে ধীরে ধীরে চুনের কণা জমে সূঁচালো শিলাস্তম্ভ তৈরি হয়, যা নিচের দিকে ঝুলতে থাকে। এই শিলাস্তম্ভকে স্ট্যালাগটাইট বলে।
১৩. আগ্নেয় শিলা কাকে বলে?
উত্তর:- পৃথিবী গঠনের সময় উত্তপ্ত ও তরল ম্যাগমা শীতল হয়ে ভূত্বকের ওপরে বা ভেতরে কঠিন শিলায় পরিণত হয়, তাকে আগ্নেয় শিলা বলে।
১৪. জীবাশ্ম কী?
উত্তর:- বহু বছর ধরে পাললিক শিলার স্তর জমার সময় কোনো উদ্ভিদ বা প্রাণী যদি সেই স্তরে চাপা পড়ে এবং তার দেহের প্রস্তরীভূত চিহ্ন রয়ে যায়, তবে তাকে জীবাশ্ম বা ফসিল বলে।
১৫. পাললিক শিলা কীভাবে তৈরি হয়?
উত্তর:- আগ্নেয় শিলা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নদী, বায়ু, হিমবাহ ইত্যাদির মাধ্যমে বহন হয়ে বিভিন্ন জলাশয়, যেমন— সমুদ্র বা হ্রদের তলদেশে জমা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চাপে ও তাপের প্রভাবে এই জমাট বাঁধা স্তরগুলি পাললিক শিলায় পরিণত হয়।
১৬. ছোটনাগপুরকে খনিজ সম্পদের ভাণ্ডার বলা হয় কেন?
উত্তর:- ছোটনাগপুর মালভূমি অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে লোহা, তামা, বক্সাইট, ম্যাঙ্গানিজ, ডলোমাইটসহ নানা মূল্যবান খনিজ পাওয়া যায়। তাই, একে ভারতের খনিজ সম্পদের ভাণ্ডার বলা হয়।
১৭. গ্রানাইট শিলা চিকচিক করে কেন?
উত্তর:- গ্রানাইট শিলার মধ্যে মাইকা নামে এক ধরনের খনিজ থাকে, যা অত্যন্ত মসৃণ ও চকচকে। তাই, গ্রানাইট শিলার ওপর আলো পড়লে এটি চিকচিক করে।
✍️ সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-৩):
১. প্রকৃতির বেশিরভাগ শিলা গঠনকারী খনিজ কী দিয়ে তৈরি?
উত্তর:- প্রকৃতির বেশিরভাগ শিলা গঠনকারী খনিজ মূলত সিলিকন, অক্সিজেন, লোহা, অ্যালুমিনিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালশিয়াম, সোডিয়াম এবং পটাশিয়াম এই আটটি মৌল নিয়ে গঠিত।
২. পাললিক শিলার বৈশিষ্ট্য কী কী?
উত্তর:-
প্রথমত, পাললিক শিলায় স্তরায়ন ও কাদার চিড় ধরা দাগ লক্ষ্য করা যায়।
দ্বিতীয়ত, একমাত্র এই শিলাতেই জীবাশ্ম পাওয়া যায়।
তৃতীয়ত, এই শিলার প্রবেশ্যতা বেশি।
চতুর্থত, এটি ভঙ্গুর প্রকৃতির এবং সহজেই ভেঙে যেতে পারে।
পঞ্চমত, কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাণ্ডার সাধারণত পাললিক শিলায় পাওয়া যায়।
ষষ্ঠত, আগ্নেয় শিলার তুলনায় এটি কম কঠিন হয় এবং এতে দারণ, ফাটল বা কেলাসের গঠন কম দেখা যায়।
৩. লবণাক্ত মাটি কীভাবে তৈরি হয়? এর বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর:- সমুদ্রের ধারে শিলাচূর্ণ জোয়ারের জলের সংস্পর্শে এসে ধীরে ধীরে লবণাক্ত মাটি তৈরি হয়। এই মাটিতে প্রচুর পরিমাণে সামুদ্রিক লবণ মিশে থাকে, যা কৃষিকাজের জন্য অনুপযুক্ত। পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন অঞ্চলে এই ধরনের মাটি বেশি দেখা যায়।
৪. চুনাপাথরযুক্ত অঞ্চলে বাঁধ বা জলাধার নির্মাণ করা উচিত নয় কেন?
উত্তর:- চুনাপাথর পানির সংস্পর্শে এলে সহজেই দ্রবীভূত হয়ে যায়, যার ফলে বাঁধ বা জলাধার ধসে পড়তে পারে। তাই, এই ধরনের অঞ্চলে স্থাপনা নির্মাণ না করাই নিরাপদ। একই কারণে বহুতল ভবন বা অতিরিক্ত রাস্তা নির্মাণ করাও ঝুঁকিপূর্ণ।
৫. অঞ্চলভেদে শিলার রূপান্তর কীভাবে ঘটে?
উত্তর:-
প্রথমত, উচ্চ চাপের ফলে বিশাল এলাকা জুড়ে শিলার আঞ্চলিক বা ব্যাপক রূপান্তর ঘটে। যেমন— প্লেট টেকটনিক আন্দোলনের ফলে শিলা পরিবর্তিত হয়।
দ্বিতীয়ত, তীব্র তাপের সংস্পর্শে এলে ছোট এলাকায় শিলার স্থানীয় বা স্পর্শ রূপান্তর ঘটে। যেমন— চুনাপাথর মার্বেলে পরিবর্তিত হয়।
৬. শিলা থেকে কীভাবে মাটি তৈরি হয়?
উত্তর:- বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তি যেমন নদী, বায়ু, বৃষ্টিপাত, সমুদ্রতরঙ্গ ও হিমবাহের ক্রিয়ার ফলে শিলা এবং তাতে থাকা খনিজ পদার্থ দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে সূক্ষ্ম শিলাচূর্ণে পরিণত হয়। পরে এই শিলাচূর্ণের সঙ্গে জল, বায়ু ও জৈব পদার্থ মিশে মাটির সৃষ্টি হয়।
৭. কার্স্ট ভূমিরূপ কীভাবে গঠিত হয়?
উত্তর:- চুনাপাথরসমৃদ্ধ অঞ্চলে বৃষ্টির জল বা নদীর জল ধীরে ধীরে চুনাপাথরকে ক্ষয় করে এবং ভূগর্ভে প্রবাহিত হয়ে বিভিন্ন আকৃতির গহ্বর ও গুহা তৈরি করে। এই বিশেষ ধরনের ভূমিরূপকে কার্স্ট ভূমিরূপ বলা হয়।
৮. আগ্নেয় শিলার বৈশিষ্ট্য কী কী?
উত্তর:-
প্রথমত, আগ্নেয় শিলা সাধারণত শক্ত, ভারী এবং এর ঘনত্ব বেশি হয়।
দ্বিতীয়ত, এই শিলায় উজ্জ্বল কেলাসের মতো গঠন দেখা যায়।
তৃতীয়ত, এতে উল্লম্ব দারণ ও ফাটল থাকতে পারে, ফলে এর প্রবেশ্যতা বেশি।
চতুর্থত, শিলার রঙ হালকা থেকে গাঢ় হতে পারে।
পঞ্চমত, এটি অত্যন্ত ক্ষয় প্রতিরোধী এবং ভঙ্গুরতা কম থাকে।
৯. উদ্বেধী আগ্নেয়শিলা কাকে বলে? উদাহরণসহ লিখ।
উত্তর:- ভূ-অভ্যন্তরে গলিত ম্যাগমা ভূত্বকের দুর্বল ফাটল বা ছিদ্র দিয়ে উপরে আসতে না পেরে ভূগর্ভেই ধীরে ধীরে শীতল ও কঠিন হয়ে যে আগ্নেয় শিলা তৈরি হয়, তাকে উদ্বেধী আগ্নেয় শিলা বলে। যেমন— গ্রানাইট, ডোলেরাইট।
১০. কোন বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে শিলাগুলিকে পরস্পরের থেকে আলাদা করা যায়?
উত্তর:- শিলাগুলিকে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়, যেমন—
প্রথমত, রং
দ্বিতীয়ত, কাঠিন্য
তৃতীয়ত, উজ্জ্বলতা
চতুর্থত, ভঙ্গুরতা
পঞ্চমত, গঠন
ষষ্ঠত, রাসায়নিক বিক্রিয়ার ক্ষমতা
১১. আগ্নেয় শিলাকে কয় ভাগে ভাগ করা যায় এবং নিঃসারী আগ্নেয় শিলা কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর:- আগ্নেয় শিলাকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়— (১) নিঃসারী আগ্নেয় শিলা এবং (২) উদ্বেধী আগ্নেয় শিলা।
নিঃসারী আগ্নেয় শিলা হলো সেই শিলা, যা ভূ-অভ্যন্তরের গলিত ম্যাগমা ভূত্বকের কোনো দুর্বল অংশ দিয়ে বাইরে বেরিয়ে এসে লাভায় পরিণত হয়ে শীতল ও কঠিন হয়ে যায়। যেমন— ব্যাসল্ট।
১২. রেগোলিথ কী?
উত্তর:- প্রাকৃতিক শক্তি যেমন— নদী, বায়ু, বৃষ্টিপাত, সমুদ্রতরঙ্গ ও হিমবাহের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে শিলা ও শিলা গঠনকারী খনিজ পদার্থ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে সূক্ষ্ম শিলাচূর্ণে পরিণত হয়। পরে এর সঙ্গে জল, বায়ু ও জৈব পদার্থ মিশে মাটির সৃষ্টি করে। এই ক্ষয়প্রাপ্ত শিলাচূর্ণকেই রেগোলিথ বলা হয়।
✍️রচনাধর্মী প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-৫):
১. শিলা কীভাবে মানুষের জীবনে এবং অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে?
উত্তর:- শিলা মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও অর্থনৈতিক কার্যকলাপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
(ক) আগ্নেয় শিলার ব্যবহার:
প্রথমত, গ্রানাইট পাথর বাড়ি ও মেঝে নির্মাণে ব্যবহৃত হয়।
দ্বিতীয়ত, ব্যাসল্ট শিলা রাস্তা, রেললাইন ও ট্রামলাইন নির্মাণে ব্যবহৃত হয়।
তৃতীয়ত, জলাধার ও বাঁধ নির্মাণেও আগ্নেয় শিলার ভূমিকা আছে।
চতুর্থত, সোনা, রূপা, তামা, সিসা ইত্যাদি খনিজ আগ্নেয় শিলা থেকেই পাওয়া যায়।
পঞ্চমত, ব্যাসল্ট শিলা থেকে গঠিত কালো মাটি তুলো ও গম চাষের জন্য খুবই উপযোগী।
(খ) পাললিক শিলার ব্যবহার:
প্রথমত, অতীতে দুর্গ, প্রাসাদ ইত্যাদি নির্মাণে বেলেপাথর ব্যবহৃত হতো।
দ্বিতীয়ত, চুনাপাথর ও ডলোমাইট সিমেন্ট, লৌহ-ইস্পাত ও রাসায়নিক শিল্পে ব্যবহৃত হয়।
তৃতীয়ত, পাললিক শিলা থেকে গঠিত পলিমাটি কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চতুর্থত, চিনামাটি থেকে রাসায়নিক ও সিরামিক শিল্পের বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি হয়।
পঞ্চমত, কয়লা, খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পাললিক শিলা থেকেই সংগৃহীত হয়।
(গ) রূপান্তরিত শিলার ব্যবহার:
প্রথমত, মার্বেল পাথর বিভিন্ন নির্মাণকাজে ব্যবহৃত হয়।
দ্বিতীয়ত, পাহাড়ি অঞ্চলে ছাদ ও মেঝে নির্মাণে প্লেটপাথর ব্যবহৃত হয়।
তৃতীয়ত, প্রানাইট থেকে পেন্সিলের সিস ও স্লেটপাথর তৈরি হয়।
চতুর্থত, রূপান্তরিত শিলা থেকে মূল্যবান খনিজ সংগৃহীত হয়।
২. প্রধান দুটি আগ্নেয় শিলার পরিচয় দাও।
উত্তর:- আগ্নেয় শিলার মধ্যে প্রধান দুটি হল গ্রানাইট ও ব্যাসল্ট।
গ্রানাইট:
এই শিলা মূলত মহাদেশীয় ভূত্বক গঠনে ব্যবহৃত হয়। এটি কোয়ার্টজ, ফেল্ডস্পার, মাইকা ও হর্নব্লেন্ড দ্বারা গঠিত। গ্রানাইটের রঙ সাধারণত হালকা সাদা, ধূসর থেকে গোলাপি হতে পারে। এটি খুব শক্ত, ভারী ও অপ্রবেশ্য হওয়ায় ক্ষয় প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি। ভূ-অভ্যন্তরে ধীরে ধীরে শীতল হয়ে জমাট বাঁধায় এর দানাগুলি তুলনামূলকভাবে বড়ো হয়। গ্রানাইট দ্বারা গঠিত অঞ্চলের ভূমিরূপ সাধারণত গোলাকার হয়।
ব্যাসল্ট:
এটি মূলত মহাসাগরীয় ভূত্বক গঠনের জন্য পরিচিত। ব্যাসল্ট শিলা কোয়ার্টজ, ফেল্ডস্পার, অলিভিন ও পাইরক্সিন দ্বারা গঠিত। এটি খুব ভারী, শক্ত ও ক্ষয় প্রতিরোধী। এর রঙ গাঢ় ধূসর থেকে কালো হয়। ব্যাসল্ট শিলায় প্রচুর উল্লম্ব দারণ ও ফাটল থাকায় এটি অত্যন্ত প্রবেশ্য। এটি খুব দ্রুত শীতল হয়ে জমাট বাঁধার ফলে এর দানাগুলি অনেক সূক্ষ্ম হয়। ব্যাসল্ট দ্বারা গঠিত অঞ্চলের ভূমিরূপ সাধারণত গোলাকার হয়।
৩. কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।
উত্তর:- খনিজ পদার্থগুলি পৃথিবীর ভূত্বকে বিদ্যমান এবং বিভিন্ন শিল্প ও নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত হয়।
(ক) কোয়ার্টজ:
প্রথমত, এটি গ্রানাইট ও ব্যাসল্ট শিলার প্রধান উপাদান।
দ্বিতীয়ত, এটি অত্যন্ত কঠিন এবং সাধারণত সাদা বা স্বচ্ছ হয়।
তৃতীয়ত, গয়না তৈরি, কাচ উৎপাদন ও পাথর কাটার কাজে কোয়ার্টজ ব্যবহৃত হয়।
(খ) ফেল্ডসপার:
প্রথমত, এটি সাদা বা গোলাপি রঙের হতে পারে এবং গ্রানাইট ও ব্যাসল্ট শিলার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
দ্বিতীয়ত, এর কাঠামো মসৃণ ও প্লেটের মতো।
তৃতীয়ত, সেরামিক শিল্প, কাচ উৎপাদন ও সিরামিক তৈরিতে ফেল্ডসপার ব্যবহৃত হয়।
(গ) অভ্র:
প্রথমত, এটি চকচকে, পাতলা ও ভঙ্গুর প্রকৃতির।
দ্বিতীয়ত, তাপ ও বিদ্যুতের কুপরিবাহী হওয়ায় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
তৃতীয়ত, মূর্তি সাজসজ্জা ও রং তৈরিতে অভ্র ব্যবহৃত হয়।
চতুর্থত, গ্রানাইট শিলায় অভ্রের উপস্থিতির কারণে এটি চিকচিক করে।
(ঘ) জিপসাম:
প্রথমত, এটি তুলনামূলকভাবে নরম ও হালকা হলুদ রঙের হয়।
দ্বিতীয়ত, সিমেন্ট শিল্প, সার উৎপাদন ও নির্মাণ কাজে জিপসাম ব্যবহৃত হয়।
৪. পাললিক শিলার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
উত্তর:- পাললিক শিলা পৃথিবীর গঠন ও জীবাশ্ম সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্রথমত, প্রায় ৩০-৩৫ কোটি বছর আগে ভূ-আন্দোলনের ফলে ঘন অরণ্য ভূগর্ভে চাপা পড়ে এবং সেখানকার তাপ ও চাপের কারণে উদ্ভিদের কাণ্ডে সঞ্চিত কার্বন কয়লায় রূপান্তরিত হয়।
দ্বিতীয়ত, ৭ থেকে ১০ কোটি বছর আগে পাললিক শিলাস্তরে বিভিন্ন প্রাণীচাপা পড়ে এবং দীর্ঘ সময় ধরে তাদের দেহাবশেষ হাইড্রোজেন ও কার্বনের দ্রবণে পরিণত হয়ে খনিজ তেল সৃষ্টি হয়।
তৃতীয়ত, খনিজ তেলের ওপরে প্রাকৃতিক গ্যাসের স্তর থাকে এবং শুধুমাত্র সচ্ছিদ্র পাললিক শিলা থেকেই এই খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস আহরণ করা সম্ভব।
৫. শিলাচক্র সম্পর্কে যা জানো লেখ।
উত্তর:- শিলাচক্র বলতে পৃথিবীর ভূত্বকে শিলার সৃষ্টি, রূপান্তর ও পুনর্গঠনের একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়াকে বোঝায়।
প্রথমত, আগ্নেয় শিলা ও পাললিক শিলা দীর্ঘ সময় ধরে তাপ, চাপ ও রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে পরিবর্তিত হয়ে রূপান্তরিত শিলায় পরিণত হয়।
দ্বিতীয়ত, ভূ-আলোড়নের ফলে রূপান্তরিত শিলা ভূগর্ভে প্রবেশ করে এবং উচ্চ তাপমাত্রায় গলে ম্যাগমাতে পরিণত হয়, যা পরবর্তীতে আগ্নেয় শিলা তৈরি করে।
তৃতীয়ত, কখনো কখনো রূপান্তরিত শিলা প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নদী বা সমুদ্রের তলদেশে জমা হয় এবং স্তরীভূত হয়ে পাললিক শিলা গঠন করে।
এইভাবে শিলার এক প্রকার থেকে আরেক প্রকারে পরিবর্তিত হওয়া একটি নির্দিষ্ট নিয়মে চক্রাকারে ঘটে, যা শিলাচক্র নামে পরিচিত।
<<<<<<<<<<<<<🌹 সমাপ্ত 🌹>>>>>>>>>>>>>

