১. মৌনালোয়া হল একটি –
(ক) মৃত আগ্নেয়গিরি (খ) জীবন্ত আগ্নেয়গিরি (গ) সুপ্ত আগ্নেয়গিরি (ঘ) খনিজ শিলা।
উত্তর: (খ) জীবন্ত আগ্নেয়গিরি।
২. বিশ্বের সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ কোনটি?
(ক) চীন (খ) জাপান (গ) ভারত (ঘ) ভুটান।
উত্তর: (খ) জাপান।
৩. যে সীমানা বরাবর দুটি টেকটোনিক প্লেট পরস্পর থেকে দূরে সরে যায়, তাকে কী বলা হয়?
(ক) অভিসারী (খ) প্রতিসারী/অপসারী (গ) নিরপেক্ষ পাতসীমানা (ঘ) কোনটিই নয়।
উত্তর: (খ) প্রতিসারী/অপসারী।
৪. ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় –
(ক) কেন্দ্র (খ) উপকেন্দ্র (গ) প্রতিপাদ অঞ্চল (ঘ) কোনটিই নয়।
উত্তর: (খ) উপকেন্দ্র।
৫. ভূমিকম্প তরঙ্গগুলোর মধ্যে কোনটি কেন্দ্রমণ্ডলের ভিতরে প্রবেশ করতে পারে?
(ক) P তরঙ্গ (খ) S তরঙ্গ (গ) L তরঙ্গ (ঘ) M তরঙ্গ।
উত্তর: (খ) S তরঙ্গ।
৬. ভূমিকম্পের সর্বাধিক ক্ষয়ক্ষতির কারণ কী?
(ক) প্রাথমিক তরঙ্গ (খ) গৌণ তরঙ্গ (গ) পৃষ্ঠ তরঙ্গ।
উত্তর: (গ) পৃষ্ঠ তরঙ্গ।
৭. প্লেট শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন কোন বিজ্ঞানী?
(ক) ওয়েগনার (খ) পিঁচো (গ) জিমোরম্যান (ঘ) উইলসন।
উত্তর: (ঘ) উইলসন।
৮. ভূমিকম্প কেন্দ্র সাধারণত ভূপৃষ্ঠ থেকে কত গভীরে থাকে?
(ক) ৫০-১০০ কিমি (খ) ১০০-১৫০ কিমি (গ) ১৫০-২০০ কিমি (ঘ) ২০০-২৫০ কিমি।
উত্তর: (ক) ৫০-১০০ কিমি।
৯. মধ্য আটলান্টিক শৈলশিরার উৎপত্তি কোন প্রকার পাতসীমানায় হয়?
(ক) ধ্বংসাত্মক (খ) গঠনাত্মক (গ) নিরপেক্ষ পাতসীমানা বরাবর (ঘ) কোনটিই নয়।
উত্তর: (খ) গঠনাত্মক।
১০. পৃথিবীর অধিকাংশ আগ্নেয়গিরি কোথায় অবস্থিত?
(ক) প্রশান্ত মহাসাগরে (খ) আটলান্টিক মহাসাগরে (গ) ভারত মহাসাগরে (ঘ) কুমেরু সাগরে।
উত্তর: (ক) প্রশান্ত মহাসাগরে।
১১. প্রায় ৩০ কোটি বছর আগে পৃথিবীর সমস্ত স্থলভাগ একটি বিশাল ভূখণ্ডরূপে অবস্থান করত। তাকে কী বলা হত?
(ক) লরেশিয়া (খ) গন্ডোয়ানা (গ) প্যানজিয়া (ঘ) ইউরেশিয়া।
উত্তর: (গ) প্যানজিয়া।
১২. ভূপৃষ্ঠের কম্পনের পরিমাপ করা হয় কোন যন্ত্রের মাধ্যমে?
(ক) ব্যারোমিটার (খ) সিসমোগ্রাফ (গ) অ্যানেমোমিটার (ঘ) ক্রোনোমিটার।
উত্তর: (খ) সিসমোগ্রাফ।
১৩. তপ্তবিন্দু থেকে কোনো ধরনের ভূমিকম্প হয় না। এটি সত্য নাকি মিথ্যা?
(ক) সত্য (খ) মিথ্যা।
উত্তর: (খ) মিথ্যা।
১৪. অপসারী পাত সীমানাকে কী বলা হয়?
(ক) ধ্বংসাত্মক সীমানা (খ) নিরপেক্ষ সীমানা (গ) গঠনকারী সীমানা (ঘ) কোনোটি নয়।
উত্তর: (গ) গঠনকারী সীমানা।
১৫. পাতলির গতিশীলতা মাঝে মাঝে বন্ধ হয়ে যায়। এটি সত্য নাকি মিথ্যা?
(ক) সত্য (খ) মিথ্যা।
উত্তর: (খ) মিথ্যা।
১৬. ইটালির ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরিটি কোন প্রকারের?
(ক) মৃত (খ) জীবন্ত (গ) সুপ্ত (ঘ) গঠনমূলক।
উত্তর: (গ) সুপ্ত।
১৭. ভারতের একটি আগ্নেয় পর্বতের নাম কী?
(ক) নীলগিরি (খ) ব্যারেন (গ) মহাদেব (ঘ) পার্বতী।
উত্তর: (খ) ব্যারেন।
১৮. বিদার অগ্ন্যুৎপাতে ভারতে কোন ধরনের মালভূমি তৈরি হয়েছে?
(ক) ছত্তিশগড় মালভূমি (খ) মালভি মালভূমি (গ) দাক্ষিণাত্য মালভূমি (ঘ) রাজমহল মালভূমি।
উত্তর: (গ) দাক্ষিণাত্য মালভূমি।
১৯. রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের তীব্রতা কত অতিক্রম করলে তা বিধ্বংসী হয়?
(ক) ৪ (খ) ৫ (গ) ৬ (ঘ) ৭।
উত্তর: (গ) ৬।
২০. ভূমিকম্পের কেন্দ্র থেকে ঠিক উল্লম্বভাবে ভূপৃষ্ঠের যে বিন্দুতে প্রথম কম্পন পৌঁছায় তাকে কী বলা হয়?
(ক) উপকেন্দ্র (খ) প্রতিকেন্দ্র (গ) ভূকম্পন কেন্দ্র (ঘ) এপিসেন্টার।
উত্তর: (ক) উপকেন্দ্র।
২১. নবীন ভঙ্গিল পর্বতের গড় বয়স কত?
(ক) ১-২.৫ কোটি বছর (খ) ৫-১০ কোটি বছর (গ) ১৫-২০ কোটি বছর (ঘ) ২৫-৩০ কোটি বছর।
উত্তর: (ক) ১-২.৫ কোটি বছর।
২২. ম্যাগমা যখন ভূপৃষ্ঠের বাইরে বেরিয়ে আসে, তখন তাকে কী বলা হয়?
(ক) লাভা (খ) আগ্নেয়গিরি (গ) সিলিকা (ঘ) প্লাজমা।
উত্তর: (ক) লাভা।
২৩. কত সালে ভূমিকম্পের ফলে সান ফ্রান্সিসকো শহর ধ্বংস হয়?
(ক) ১৮৫৬ (খ) ১৯০৬ (গ) ১৯৫৬ (ঘ) ২০০৬।
উত্তর: (খ) ১৯০৬।
২৪. একটি প্রাচীন ভঙ্গিল পর্বত কোনটি?
(ক) হিমালয় (খ) অ্যাপালাচিয়ান (গ) আরাবল্লি (ঘ) আল্পস।
উত্তর: (গ) আরাবল্লি।
২৫. ভবিষ্যতে যে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের সম্ভাবনা নেই, তাকে কী বলা হয়?
(ক) সক্রিয় আগ্নেয়গিরি (খ) সুপ্ত আগ্নেয়গিরি (গ) মৃত আগ্নেয়গিরি (ঘ) গঠিত আগ্নেয়গিরি।
উত্তর: (গ) মৃত আগ্নেয়গিরি।
২৬. যখন দুটি পাত পরস্পরের দিকে অগ্রসর হয়, তখন তাকে কী বলা হয়?
(ক) অভিসারী পাত সীমানা (খ) অপসারী পাত সীমানা (গ) নিরপেক্ষ পাত সীমানা (ঘ) স্থিতিশীল পাত সীমানা।
উত্তর: (ক) অভিসারী পাত সীমানা।
২৭. ‘S’ তরঙ্গের গতিবেগ সাধারণত কত হয়?
(ক) সেকেন্ডে ১-৩ কিমি (খ) সেকেন্ডে ৩-৫ কিমি (গ) সেকেন্ডে ৫-৭ কিমি (ঘ) সেকেন্ডে ৭-৯ কিমি।
উত্তর: (খ) সেকেন্ডে ৩-৫ কিমি।
২৮. সুপ্ত আগ্নেয়গিরি সম্পর্কে নিচের কোনটি সঠিক?
(ক) ভবিষ্যতে অগ্ন্যুৎপাত হবে না
(খ) ভবিষ্যতে অগ্ন্যুৎপাত হতে পারে
(গ) এটি কেবল জলীয় বাষ্প উদ্গীরণ করে
(ঘ) এটি সম্পূর্ণভাবে শীতল হয়ে গেছে।
উত্তর: (খ) ভবিষ্যতে অগ্ন্যুৎপাত হতে পারে।
২৯. পাতগুলি পরস্পর থেকে ক্রমশ দূরে সরে গেলে তাকে কী বলে?
(ক) অভিসারী পাত (খ) অপসারী পাত (গ) স্থিতিশীল পাত (ঘ) সমান্তরাল পাত।
উত্তর: (খ) অপসারী পাত।
৩০. ইটালির ভিসুভিয়াস কী ধরনের আগ্নেয়গিরি?
(ক) মৃত (খ) সুপ্ত (গ) সক্রিয় (ঘ) বিলুপ্ত।
উত্তর: (খ) সুপ্ত।
৩১. উরাল পর্বত কোন প্রকারের পর্বত?
(ক) নবীন ভঙ্গিল (খ) স্তুপ পর্বত (গ) আগ্নেয় পর্বত (ঘ) প্রাচীন ভঙ্গিল।
উত্তর: (ঘ) প্রাচীন ভঙ্গিল।
৩২. ভারতের হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল সম্পর্কে কোনটি সঠিক?
(ক) এটি একটি স্থিতিশীল ভূখণ্ড
(খ) এটি ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা
(গ) এখানে আগ্নেয়গিরির সংখ্যা বেশি
(ঘ) এটি একটি মরুভূমি অঞ্চল।
উত্তর: (খ) এটি ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা।
৩৩. সিসিলির স্ট্রম্বেলি কী ধরনের আগ্নেয়গিরি?
(ক) মৃত (খ) সুপ্ত (গ) সক্রিয় (ঘ) বিলুপ্ত।
উত্তর: (গ) সক্রিয়।
৩৪. অ্যাসথেনোস্ফিয়ারের উষ্ণতা সাধারণত কত হয়?
(ক) ৫০০°সে (খ) ৮০০°সে (গ) ১১০০°সে (ঘ) ১৩০০°সে।
উত্তর: (ঘ) ১৩০০°সে।
৩৫. টুজো উইলসন কোন বিষয়ে গবেষণা করেছিলেন?
(ক) আগ্নেয়গিরি তত্ত্ব (খ) পাত সংস্থান তত্ত্ব (গ) ভূমিকম্প বিজ্ঞানের ভিত্তি (ঘ) আবহাওয়া পরিবর্তন।
উত্তর: (খ) পাত সংস্থান তত্ত্ব।
৩৬. ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি ও তীব্রতা পরিমাপ করা হয় কোন স্কেলের মাধ্যমে?
(ক) রিখটার স্কেল (খ) বিউফোর্ট স্কেল (গ) কেলভিন স্কেল (ঘ) মরকেলি স্কেল।
উত্তর: (ক) রিখটার স্কেল।
৩৭. ‘P’ তরঙ্গের গড় গতিবেগ কত?
(ক) সেকেন্ডে ৩ কিমি (খ) সেকেন্ডে ৬ কিমি (গ) সেকেন্ডে ৯ কিমি (ঘ) সেকেন্ডে ১২ কিমি।
উত্তর: (খ) সেকেন্ডে ৬ কিমি।
৩৮. ভারতের দাক্ষিণাত্য মালভূমি ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা কি না?
(ক) হ্যাঁ (খ) না।
উত্তর: (খ) না।
৩৯. ভূমিকম্প সবচেয়ে বেশি হয় এরকম একটি অভিসারী সংঘর্ষ সীমানার উদাহরণ কোনটি?
(ক) আন্দিজ পর্বতমালা (খ) হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল (গ) রকি পর্বতমালা (ঘ) উরাল পর্বতমালা।
উত্তর: (খ) হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল।
৪০. পৃথিবীর বাইরের স্তরটি কী নামে পরিচিত, যা কতকগুলি শক্ত কঠিন পাতের সমন্বয়ে গঠিত?
(ক) ম্যান্টল (খ) শিলামণ্ডল (গ) ক্রাস্ট (ঘ) কোর।
উত্তর: (খ) শিলামণ্ডল।
৪১. ভূমিকম্পের কোন তরঙ্গ সবচেয়ে বিধ্বংসী?
(ক) P তরঙ্গ (খ) S তরঙ্গ (গ) L তরঙ্গ (ঘ) M তরঙ্গ।
উত্তর: (গ) L তরঙ্গ।
৪২. পৃথিবীপৃষ্ঠে বড়ো পাতের সংখ্যা কত?
(ক) ৪টি (খ) ৫টি (গ) ৬টি (ঘ) ৭টি।
উত্তর: (গ) ৬টি।
৪৩. জাপানের মাউন্ট ফুজি কী ধরনের আগ্নেয়গিরি?
(ক) মৃত (খ) সুপ্ত (গ) সক্রিয় (ঘ) বিলুপ্ত।
উত্তর: (খ) সুপ্ত।
৪৪. ‘P’ তরঙ্গ কীভাবে প্রবাহিত হয়?
(ক) কেবল কঠিন পদার্থের মাধ্যমে
(খ) কঠিন ও তরল উভয় মাধ্যমের মাধ্যমে
(গ) কেবল গ্যাসীয় মাধ্যমে
(ঘ) কেবল তরল পদার্থের মাধ্যমে।
উত্তর: (খ) কঠিন ও তরল উভয় মাধ্যমের মাধ্যমে।
৪৫. একটি নিরপেক্ষ পাত সীমানার উদাহরণ কোনটি?
(ক) আন্দিজ পর্বত (খ) হিমালয় পর্বত (গ) সান আন্দ্রিজ চ্যুতি (ঘ) জাপানের দ্বীপমালা।
উত্তর: (গ) সান আন্দ্রিজ চ্যুতি।
৪৬. পৃথিবীর সমস্ত স্থলভাগ একসময় একটি বিশাল ভূখণ্ডরূপে অবস্থান করত। তাকে কী বলা হত?
(ক) গন্ডোয়ানা (খ) লারাসিয়া (গ) প্যানজিয়া (ঘ) ইউরেশিয়া।
উত্তর: (গ) প্যানজিয়া।
৪৭. মহীসঞ্চরণ তত্ত্ব কোন বিষয়ে ভালো ব্যাখ্যা দিতে পারে না?
(ক) পাতের গঠন
(খ) ভূমিকম্পের কারণ
(গ) পর্বত গঠনের কারণ
(ঘ) আগ্নেয়গিরির উৎপত্তি।
উত্তর: (গ) পর্বত গঠনের কারণ।
৪৮. সান ফ্রান্সিসকো ও লস এঞ্জেলেস কোন চ্যুতির ওপরে অবস্থিত?
(ক) হিমালয় চ্যুতি (খ) সান আন্দ্রিজ চ্যুতি (গ) রিং অফ ফায়ার চ্যুতি (ঘ) আটলান্টিক রিজ চ্যুতি।
উত্তর: (খ) সান আন্দ্রিজ চ্যুতি।
৪৯. পাতগুলির আয়তনের তুলনায় বেধ কেমন হয়?
(ক) বেশি (খ) কম (গ) সমান (ঘ) পরিবর্তনশীল।
উত্তর: (খ) কম।
৫০. দুটি পাত পরস্পর থেকে দূরে সরে গেলে তাদের কী বলা হয়?
(ক) অভিসারী পাত (খ) অপসারী পাত (গ) নিরপেক্ষ পাত (ঘ) ভগ্নাংশ পাত।
উত্তর: (খ) অপসারী পাত।
৫১. অগ্ন্যুৎপাত কী ধরনের ভূগাঠনিক প্রক্রিয়া?
(ক) রাসায়নিক (খ) ভূগাঠনিক (গ) জৈবিক (ঘ) ভৌত।
উত্তর: (খ) ভূগাঠনিক।
৫২. ক্ষারকীয় লাভার একটি বৈশিষ্ট্য কী?
(ক) খুব ঘন ও কঠিন
(খ) তরল অবস্থায় থাকে
(গ) বিস্ফোরকভাবে উদ্গীরণ হয়
(ঘ) কেবলমাত্র সমুদ্রের নিচে পাওয়া যায়।
উত্তর: (খ) তরল অবস্থায় থাকে।
৫৩. রিখটার স্কেলের পরিসীমা কত?
(ক) ০-১২ (খ) ০-৮ (গ) ০-১০ (ঘ) ০-৯।
উত্তর: (গ) ০-১০।
৫৪. ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি ও তীব্রতা কী দ্বারা পরিমাপ করা হয়?
(ক) বিউফোর্ট স্কেল (খ) কেলভিন স্কেল (গ) রিখটার স্কেল (ঘ) মরকেলি স্কেল।
উত্তর: (গ) রিখটার স্কেল।
৫৫. প্রশান্ত মহাসাগরীয় অগ্নিবলয়ে পৃথিবীর কত শতাংশ ভূমিকম্প হয়?
(ক) ২৫% (খ) ৫০% (গ) ৭৫% (ঘ) ৯০%।
উত্তর: (ঘ) ৯০%।
৫৬. হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের পাতলা লাভার নাম কী?
(ক) আ আ লাভা (খ) পা হো হো (গ) ব্যাসাল্টিক লাভা (ঘ) সান্দ্র লাভা ।
উত্তর: (খ) পা হো হো।
৫৭. অভিসারী পাত সীমানায় সৃষ্ট একটি পর্বতশ্রেণির নাম কী?
(ক) রকি পর্বত (খ) আন্দিজ পর্বত (গ) হিমালয় (ঘ) উরাল পর্বত ।
উত্তর: (গ) হিমালয়।
৫৮. প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাত বছরে কত সেমি করে সরছে?
(ক) ৫ সেমি (খ) ১০ সেমি (গ) ১৫ সেমি (ঘ) ২০ সেমি ।
উত্তর: (খ) ১০ সেমি।
৫৯. মাউন্ট ফুজি কোন্ ধরনের পর্বত?
(ক) মৃত আগ্নেয়গিরি (খ) সুপ্ত আগ্নেয়গিরি (গ) সক্রিয় আগ্নেয়গিরি (ঘ) তরুণ ভঙ্গিল পর্বত ।
উত্তর: (খ) সুপ্ত আগ্নেয়গিরি।
৬০. পৃথিবীর একটি সুপ্ত আগ্নেয়গিরির নাম কী?
(ক) ব্যারেন (খ) ক্রাকাটোয়া (গ) ফুজিয়ামা (ঘ) মাউন্ট হেলেন ।
উত্তর: (গ) ফুজিয়ামা।
৬১. ভারতের একটি আগ্নেয় পর্বতের নাম কী?
(ক) ব্যারেন (খ) কাঞ্চনজঙ্ঘা (গ) হিমালয় (ঘ) নীলগিরি ।
উত্তর: (ক) ব্যারেন।
৬২. ভূত্বকের পাতগুলি কীসের ওপর ভাসমান?
(ক) লিথোস্ফিয়ারের ওপর (খ) অ্যাসথেনোস্ফিয়ারের ওপর (গ) ম্যাগমার ওপর (ঘ) ভূত্বকের ওপর ।
উত্তর: (খ) অ্যাসথেনোস্ফিয়ারের ওপর।
৬৩. একটি নিরপেক্ষ পাত সীমানার উদাহরণ কী?
(ক) হিমালয় পর্বত (খ) আন্দিজ পর্বত (গ) সান আন্দ্রিজ চ্যুতি (ঘ) আলপাইন পর্বতমালা ।
উত্তর: (গ) সান আন্দ্রিজ চ্যুতি।
৬৪. ‘S’ তরঙ্গের গতিবেগ কত?
(ক) সেকেন্ডে ১-৩ কিমি (খ) সেকেন্ডে ৩-৫ কিমি (গ) সেকেন্ডে ৫-৭ কিমি (ঘ) সেকেন্ডে ৭-৯ কিমি ।
উত্তর: (খ) সেকেন্ডে ৩-৫ কিমি।
৬৫. প্রতিসারী পাত সীমানা বরাবর কী গঠিত হয়?
(ক) মধ্যসামুদ্রিক শৈলশিরা (খ) পর্বতমালা (গ) ভূমিকম্প কেন্দ্র (ঘ) আগ্নেয় দ্বীপ ।
উত্তর: (ক) মধ্যসামুদ্রিক শৈলশিরা।
৬৬. ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি ও তীব্রতা মাপার যন্ত্রের নাম কী?
(ক) ব্যারোমিটার (খ) রিখটার স্কেল (গ) সিসমোগ্রাফ (ঘ) থার্মোমিটার ।
উত্তর: (খ) রিখটার স্কেল।
৬৭. লাভ তরঙ্গ ও র্যালে তরঙ্গ আসলে কী?
(ক) দেহ তরঙ্গ (খ) ভূকম্পীয় তরঙ্গ (গ) পৃষ্ঠ তরঙ্গ (ঘ) মধ্যসাগরীয় তরঙ্গ ।
উত্তর: (গ) পৃষ্ঠ তরঙ্গ।
৬৮. যে পাতগুলি পরস্পরের সমান্তরালে পাশাপাশি সঞ্চালিত হয় তাদের কী বলা হয়?
(ক) অপসারী পাত (খ) অভিসারী পাত (গ) ট্রান্সফর্ম পাত (ঘ) গৌণ পাত ।
উত্তর: (গ) ট্রান্সফর্ম পাত।
৬৯. একটি প্রবীণ ভঙ্গিল পর্বতের নাম কী?
(ক) আন্দিজ (খ) অ্যাপালেচিয়ান (গ) রকি (ঘ) আল্পস ।
উত্তর: (খ) অ্যাপালেচিয়ান।
৭০. বিজ্ঞানী মার্কালি কোন স্কেল আবিষ্কার করেন?
(ক) রিখটার স্কেল (খ) মরকেলি স্কেল (গ) সিসমোগ্রাফ স্কেল (ঘ) ম্যাগনিচুড স্কেল ।
উত্তর: (খ) মরকেলি স্কেল।
৭১. ‘P’ ও ‘S’-দ্বারা ভূমিকম্পের কী বোঝায়?
(ক) পৃষ্ঠ তরঙ্গ (খ) দেহতরঙ্গ (গ) ভূকম্পন তরঙ্গ (ঘ) উপসাগরীয় তরঙ্গ ।
উত্তর: (খ) দেহতরঙ্গ।
৭২. পৃথিবীতে বড়ো পাত কয়টি আছে?
(ক) ৪টি (খ) ৫টি (গ) ৬টি (ঘ) ৭টি ।
উত্তর: (গ) ৬টি।
৭৩. ইটালির ভিসুভিয়াস কী ধরনের আগ্নেয়গিরি?
(ক) সক্রিয় (খ) সুপ্ত (গ) মৃত (ঘ) বিলুপ্ত ।
উত্তর: (খ) সুপ্ত।
৭৪. ‘আ আ লাভা’ কী?
(ক) ভারতের আগ্নেয়গিরির লাভা (খ) হাওয়াই দ্বীপের লাভা (গ) প্রশান্ত মহাসাগরের লাভা (ঘ) ইউরোপের লাভা ।
উত্তর: (খ) হাওয়াই দ্বীপের লাভা।
৭৫. মহীসংরণ তত্ত্ব অনুসারে বিশাল আকৃতির মহাদেশটির নাম কী?
(ক) গন্ডোয়ানা (খ) লারাসিয়া (গ) প্যানজিয়া (ঘ) ইউরেশিয়া ।
উত্তর: (গ) প্যানজিয়া।
৭৬. ক্ষারকীয় লাভার একটি বৈশিষ্ট্য কী?
(ক) খুব ঘন ও কঠিন (খ) তরল অবস্থায় থাকে (গ) বিস্ফোরকভাবে উদ্গীরণ হয় (ঘ) কেবলমাত্র সমুদ্রের নিচে পাওয়া যায় ।
উত্তর: (খ) তরল অবস্থায় থাকে।
✍️অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-১):
১) কোন স্রোতের কারণে পৃথিবীর পাতগুলি নড়াচড়া করে?
উত্তর: পরিচলন স্রোতের প্রভাবে।
২) পাতসংস্থান তত্ত্বের জনক কে?
উত্তর: পিঁচো।
৩) পৃথিবীর উপরিভাগ কতগুলো পাতের দ্বারা গঠিত?
উত্তর: ৬ বা ৭টি বড় পাত এবং প্রায় ২০টি মাঝারি ও ছোট পাতের সমন্বয়ে গঠিত।
৪) "প্লেট" বা "পাত" শব্দটি ভূ-বিজ্ঞানে প্রথম কে ব্যবহার করেন?
উত্তর: ভূ-বিজ্ঞানী উইলসন।
৫) মহীসঞ্চরণ তত্ত্ব অনুসারে, অতীতে পৃথিবীর সমস্ত মহাদেশ একত্রে মিলিত হয়ে কোন বিশাল ভূখণ্ড গঠন করেছিল?
উত্তর: প্যানজিয়া।
৬) মহীসঞ্চরণ তত্ত্বের প্রবক্তা কে?
উত্তর: অ্যালফ্রেড ওয়েগনার।
৭) কোন আগ্নেয়গিরি "ভূমধ্যসাগরীয় আলোকস্তম্ভ" নামে পরিচিত?
উত্তর: সিসিলির স্ট্রম্বোলি আগ্নেয়গিরি।
৮) পৃথিবীর বেশিরভাগ আগ্নেয়গিরি কোন মহাসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত?
উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে।
৯) পৃথিবীর সর্বোচ্চ আগ্নেয়গিরি কোনটি?
উত্তর: হাওয়াই দ্বীপের মৌনালেয়া।
১০) কোন দুটি পাতের সংঘর্ষের ফলে হিমালয় পর্বত গঠিত হয়েছে?
উত্তর: ভারতীয় পাত এবং ইউরেশীয় পাতের সংঘর্ষে।
১১) সান আন্দ্রিজ ফল্ট (চ্যুতি) এর উপর অবস্থিত দুটি শহরের নাম কী?
উত্তর: সান ফ্রান্সিসকো এবং লস অ্যাঞ্জেলস।
১২) সান আন্দ্রিজ ফল্ট (চ্যুতি) কোন ধরনের পাত সীমানার উদাহরণ?
উত্তর: নিরপেক্ষ পাত সীমানার।
১৩) প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাত প্রতি বছর কত সেন্টিমিটার করে সরে যাচ্ছে?
উত্তর: ১০ সেন্টিমিটার করে।
১৪) মধ্য সামুদ্রিক শৈলশিরা কোন ধরনের পাত সীমান্তে অবস্থিত?
উত্তর: অপসারী বা গঠনকারী পাত সীমান্তে।
১৫) কোন ধরনের পাত সীমানায় ভূত্বক সৃষ্টি বা ধ্বংস হয় না?
উত্তর: নিরপেক্ষ পাত সীমানায়।
১৬) ভূমিকম্প মাপার জন্য ব্যবহৃত যন্ত্রের নাম কী?
উত্তর: সিসমোগ্রাফ।
১৭) রিখটার স্কেলের সর্বোচ্চ মান কত?
উত্তর: ১০।
১৮) ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি ও তীব্রতা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত স্কেলের নাম কী?
উত্তর: রিখটার স্কেল।
১৯) ভূমিকম্পের কোন তরঙ্গ সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি করে?
উত্তর: পৃষ্ঠ বা L তরঙ্গ।
২০) ভূকম্পনের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগামী তরঙ্গ কোনটি?
উত্তর: প্রাথমিক বা P তরঙ্গ।
২১) কোন তরঙ্গ সমস্ত মাধ্যমের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে?
উত্তর: প্রাথমিক বা P তরঙ্গ।
২২) কোন তরঙ্গ শুধুমাত্র কঠিন পদার্থের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়?
উত্তর: S তরঙ্গ।
২৩) ব্ল্যাক সয়েল (Black Soil) কী?
উত্তর: দাক্ষিণাত্য মালভূমির উর্বর কৃষ্ণ মৃত্তিকা।
২৪) পৃথিবীর দীর্ঘতম ভাঁজযুক্ত পর্বতশ্রেণী কোনটি?
উত্তর: আন্দিজ পর্বত।
২৫) ভারতের সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল কোনটি?
উত্তর: হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল।
✍️সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-২):
১) মৃত আগ্নেয়গিরি কাকে বলে?
উত্তর: যেসব আগ্নেয়গিরি বহু প্রাচীনকালে অগ্নুৎপাত ঘটিয়েছে, কিন্তু বর্তমানে এবং ভবিষ্যতে এর অগ্নুৎপাতের সম্ভাবনা নেই, সেগুলোকে মৃত আগ্নেয়গিরি বলা হয়। যেমন— মায়ানমারের পোপো, মেক্সিকোর পারকুটিন ইত্যাদি।
২) সুপ্ত আগ্নেয়গিরি কাকে বলে?
উত্তর: যেসব আগ্নেয়গিরি একবার অগ্নুৎপাতের পর দীর্ঘ সময় ধরে নিস্তব্ধ থাকে, তবে ভবিষ্যতে আবার অগ্নুৎপাতের সম্ভাবনা থাকে, তাদের সুপ্ত আগ্নেয়গিরি বলা হয়। যেমন— জাপানের ফুজিয়ামা, ইন্দোনেশিয়ার ক্রাকাতোয়া ইত্যাদি।
৩) সক্রিয় আগ্নেয়গিরি কাকে বলে?
উত্তর: যেসব আগ্নেয়গিরি সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে নিয়মিত বা ঘন ঘন অগ্নুৎপাত ঘটিয়ে চলেছে, তাদের সক্রিয় আগ্নেয়গিরি বলা হয়। যেমন— ভারতের ব্যারেন দ্বীপ, ইতালির ভিসুভিয়াস, হাওয়াই দ্বীপের মৌনালোয়া ইত্যাদি।
৪) আগ্নেয় পর্বতকে সঞ্চয়জাত পর্বত কেন বলা হয়?
উত্তর: আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের ফলে নির্গত আগ্নেয় পদার্থ দীর্ঘ সময় ধরে জমতে জমতে পাহাড়ের আকৃতি ধারণ করে। এই সঞ্চয় প্রক্রিয়ার ফলে তৈরি হওয়ায় আগ্নেয় পর্বতকে সঞ্চয়জাত পর্বত বলা হয়।
৫) আগ্নেয় পর্বত কাকে বলে?
উত্তর: দীর্ঘ সময় ধরে একাধিক অগ্নুৎপাতের ফলে নির্গত লাভা ও অন্যান্য আগ্নেয় পদার্থ জমে যে শঙ্কু আকৃতির পর্বত গঠিত হয়, তাকে আগ্নেয় পর্বত বলা হয়। এটি সঞ্চয়জাত পর্বত নামেও পরিচিত।
৬) অগ্ন্যুদগম কাকে বলে?
উত্তর: যখন ভূগর্ভের উত্তপ্ত ও গলিত ম্যাগমা ভূ-ত্বকের ফাটল বা ছিদ্রপথ দিয়ে ভূ-পৃষ্ঠে বেরিয়ে আসে, তখন এই ঘটনাকে অগ্ন্যুদগম বলা হয়। এটি কখনও শান্তভাবে এবং কখনও বিস্ফোরণের মাধ্যমে ঘটে।
৭) অভিসারী বা বিনাশকারী পাত সীমানা কী?
উত্তর: যখন দুটি টেকটোনিক প্লেট পরস্পরের দিকে এগিয়ে এসে সংঘর্ষের ফলে একটির নিচে আরেকটি ঢুকে যায়, তখন সেই অঞ্চলকে অভিসারী বা বিনাশকারী পাত সীমানা বলা হয়।
৮) অপসারী বা গঠনকারী পাত সীমানা কী?
উত্তর: যে সীমানায় দুটি টেকটোনিক প্লেট পরস্পর থেকে দূরে সরে যায় এবং নতুন ভূত্বক সৃষ্টি হয়, তাকে অপসারী বা গঠনকারী পাত সীমানা বলে।
৯) ভূমিকম্পের তরঙ্গ কত প্রকার এবং কী কী?
উত্তর: ভূমিকম্পের তরঙ্গ মূলত তিন ধরনের হয়—প্রাথমিক (P) তরঙ্গ, দ্বিতীয় পর্যায়ের (S) তরঙ্গ এবং পৃষ্ঠ (L) তরঙ্গ।
১০) ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র কী?
উত্তর: ভূমিকম্প কেন্দ্রের ঠিক উপরের ভূ-পৃষ্ঠের বিন্দুকে ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র বলে, যেখানে ভূমিকম্পের তরঙ্গ প্রথম অনুভূত হয়।
১১) ভূমিকম্পের কেন্দ্র কী?
উত্তর: ভূ-অভ্যন্তরের যে নির্দিষ্ট স্থানে ভূমিকম্পের কম্পন সৃষ্টি হয়, তাকে ভূমিকম্পের কেন্দ্র বলে।
১২) প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলা কী?
উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরের চারপাশে, এশিয়ার পূর্ব উপকূল এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম উপকূল বরাবর আগ্নেয়গিরিগুলি একটি সংকীর্ণ বলয়ে অবস্থিত। এই কারণে একে প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলা বলা হয়।
১৩) প্রশান্ত মহাসাগরীয় অগ্নিবলয়ে অবস্থিত দুটি আগ্নেয়গিরির নাম লেখ।
উত্তর: জাপানের ফুজিয়ামা এবং ইন্দোনেশিয়ার ক্রাকাতোয়া।
১৪) ভূমিকম্প বলয়ে অবস্থিত প্রধান প্রধান আগ্নেয়গিরিগুলোর নাম উল্লেখ কর।
উত্তর: ভূমিকম্প বলয়ে অবস্থিত প্রধান আগ্নেয়গিরিগুলোর মধ্যে রয়েছে— ফুজিয়ামা, পিনাটুবো, ক্রাকাতোয়া, সেন্ট হেলেন্স, পোপোক্যাটিপেটল এবং কোটোপ্যাক্সি।
১৫) প্যানথালাসা কী?
উত্তর: প্রায় ৩০ কোটি বছর আগে পৃথিবীর সমস্ত ভূখণ্ড একত্রে অবস্থান করত, যা প্যানজিয়া নামে পরিচিত ছিল। এই বিশাল ভূখণ্ডের চারদিকে যে সুবিশাল মহাসাগর বিস্তৃত ছিল, তাকে প্যানথালাসা বলা হয়।
১৬) প্রশান্ত মহাসাগরীয় অগ্নিবলয় ভূমিকম্পপ্রবণ কেন?
উত্তর: পৃথিবীর অধিকাংশ সক্রিয় আগ্নেয়গিরি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত। তাই এই অঞ্চলেই পৃথিবীর মোট ভূমিকম্পের প্রায় ৭০ শতাংশ ঘটে।
১৭) প্যানজিয়া কী?
উত্তর: আজ থেকে প্রায় ৩০ কোটি বছর আগে পৃথিবীর সমস্ত মহাদেশ একসঙ্গে যুক্ত ছিল এবং এটি একটি বিশাল ভূখণ্ড গঠন করেছিল, যাকে প্যানজিয়া বলা হয়।
১৮) পৃথিবীর প্রধান ভঙ্গিল পর্বতমালাগুলোর নাম লেখ।
উত্তর: পৃথিবীর বেশিরভাগ ভঙ্গিল পর্বত মহাদেশীয় পাতের সংঘর্ষের ফলে সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল— অ্যাপালাচিয়ান, ইউরাল, আন্দিজ, আরাবল্লী ইত্যাদি।
১৯) নিরপেক্ষ পাতসীমানা কাকে বলে?
উত্তর: কিছু ক্ষেত্রে দুটি ভূগর্ভস্থ পাত পরস্পরের সঙ্গে ঘর্ষণ করে পাশাপাশি অগ্রসর হয়। এতে ভূমিকম্প, চ্যুতি ইত্যাদি সৃষ্টি হয়, কিন্তু কোনো নতুন ভূখণ্ড সৃষ্টি হয় না বা ধ্বংস হয় না। এই ধরনের পাত সীমানাকে নিরপেক্ষ পাতসীমানা বলা হয়।
২০) পৃথিবীর বিখ্যাত গাইজার কোনটি?
উত্তর: পৃথিবীর অন্যতম বিখ্যাত গাইজার হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্কে অবস্থিত ‘ওল্ড ফেইথফুল গাইজার’, যা প্রায় প্রতি ৪৫ মিনিট অন্তর গরম পানির ধারা উৎক্ষিপ্ত করে।
২১) অগ্ন্যুদ্গম কি একটি ভূগাঠনিক প্রক্রিয়া? কেন?
উত্তর: হ্যাঁ, অগ্ন্যুদ্গম একটি ভূগাঠনিক প্রক্রিয়া। কারণ, অগ্ন্যুৎপাতের মাধ্যমে নতুন ভূমিরূপ গঠিত হয়, যা ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
২২) পৃথিবীর ২০ শতাংশ ভূমিকম্প কোথায় ঘটে?
উত্তর: বিশ্বের মোট ভূমিকম্পের প্রায় ২০ শতাংশ মেক্সিকো থেকে শুরু করে আটলান্টিক মহাসাগর, ভূমধ্যসাগর, আল্পস, হিমালয় পর্যন্ত বিস্তৃত মধ্য পৃথিবীর পার্বত্য বলয়ে ঘটে।
২৩) ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি ও তীব্রতার মাত্রা কীভাবে পরিমাপ করা হয়?
উত্তর: ভূমিকম্পের তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতি নির্ণয়ের জন্য রিখটার স্কেল ব্যবহার করা হয়, যার পরিমাপ মাত্রা ০ থেকে ১০ পর্যন্ত।
২৪) ভূকম্পন তরঙ্গ কাকে বলে?
উত্তর: ভূমিকম্পের সময় উৎপন্ন শক্তি কেন্দ্র বা উপকেন্দ্র থেকে তরঙ্গের মতো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, যাকে ভূকম্পন তরঙ্গ বলা হয়।
২৫) ভূমিকম্প কাকে বলে?
উত্তর: পৃথিবীর অভ্যন্তরে ভূত্বকের প্লেটগুলোর সংঘর্ষ, চাপ বা চ্যুতি ঘটলে যে কম্পন অনুভূত হয়, তাকে ভূমিকম্প বলে।
২৬) লাভা কী?
উত্তর: ভূগর্ভস্থ গলিত পদার্থকে ম্যাগমা বলা হয়। যখন এটি অগ্ন্যুৎপাতের মাধ্যমে ভূ-পৃষ্ঠে বেরিয়ে আসে, তখন তাকে লাভা বলা হয়।
২৭) ভূ-পৃষ্ঠের পরিবর্তন ঘটানো শক্তিকে কীভাবে ভাগ করা হয়েছে?
উত্তর: ভূ-পৃষ্ঠের পরিবর্তন ঘটানো শক্তিকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে— (১) ভূঅভ্যন্তরীণ শক্তি এবং (২) ভূবহি:স্থ শক্তি।
২৮) হিমালয় ও আল্পস পর্বতমালা কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে?
উত্তর: ভারতীয় পাত ও ইউরেশীয় পাতের সংঘর্ষের ফলে হিমালয় পর্বতমালা গঠিত হয়েছে, আর আফ্রিকা ও ইউরেশীয় পাতের সংঘর্ষের ফলে আল্পস পর্বতমালার সৃষ্টি হয়েছে।
✍️সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-৩):
১) ভূমিকম্পের প্রধান প্রভাব/ফলাফল কী কী?
উত্তর:
- ভূমিকম্পের ফলে বহু মানুষ ও প্রাণীর মৃত্যু ঘটে, পাশাপাশি গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
- ভূগর্ভস্থ জল, গ্যাস ও তেলের পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে জরুরি পরিষেবা ব্যাহত হয়।
- রাস্তা, সেতু, ভবন ও বাঁধ ভেঙে পড়ে, পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় ধস নামার ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়।
২) সান ফ্রান্সিসকো এবং লস অ্যাঞ্জেলস শহর বসবাসের জন্য কেন ঝুঁকিপূর্ণ?
উত্তর: এই দুটি শহর সান আন্দ্রিয়াস চ্যুতি অঞ্চলে অবস্থিত। এখানে প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাত উত্তরের দিকে এবং উত্তর আমেরিকা পাত দক্ষিণের দিকে সরছে, যার ফলে অঞ্চলটি ভূগাঠনিকভাবে অস্থিতিশীল। এই কারণে এখানে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়, যা বসবাসকারীদের জন্য বিপজ্জনক।
৩) প্রশান্ত মহাসাগরীয় অগ্নিবলয় কেন ভূমিকম্পপ্রবণ?
উত্তর: পৃথিবীর বেশিরভাগ সক্রিয় আগ্নেয়গিরি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অগ্নিবলয়কে ঘিরে রয়েছে। এই আগ্নেয়গিরিগুলি সাধারণত পাত সীমানায় অবস্থিত, যেখানে টেকটোনিক প্লেটগুলোর ক্রমাগত সংঘর্ষ ও বিভাজন ঘটে। ফলে এই অঞ্চলটি অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ, এবং পৃথিবীর প্রায় ৭০ শতাংশ ভূমিকম্প এখানেই ঘটে।
৪) আমরা পাত সঞ্চালন টের পাই না কেন?
উত্তর: পৃথিবীর টেকটোনিক পাতগুলো অত্যন্ত ধীরগতিতে অ্যান্থেনোস্ফিয়ারের ওপর সরতে থাকে। যেমন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাত বছরে প্রায় ১০ সেমি এবং আমেরিকান পাত বছরে ২-৩ সেমি করে স্থানান্তরিত হয়। এই গতি এতই ধীর যে আমাদের পক্ষে তা সরাসরি অনুভব করা সম্ভব নয়।
৫) আন্দিজ পার্বত্য অঞ্চল বা নবীন ভঙ্গিল পর্বতমালা ভূমিকম্পপ্রবণ কেন?
উত্তর:
- এই অঞ্চলে পর্বত গঠনের প্রক্রিয়া এখনো সক্রিয় রয়েছে, ফলে ভূকম্পনের ঘটনা ঘনঘন ঘটে।
- শিলাস্তরে ব্যাপক চ্যুতি সৃষ্টি হওয়ার কারণে অঞ্চলটি ভূমিকম্পপ্রবণ হয়ে উঠেছে।
৬) অপসারী পাত সীমানাকে গঠনকারী পাত সীমানা বলা হয় কেন?
উত্তর: অপসারী পাত সীমানায় দুটি পাত বিপরীতমুখী গতিতে পরস্পর থেকে দূরে সরে যায়। এতে ভূত্বকে ফাটল সৃষ্টি হয় এবং এই ফাটলের মধ্যে দিয়ে ভূগর্ভস্থ গলিত ম্যাগমা বেরিয়ে এসে নতুন ভূত্বক তৈরি করে। এই কারণেই একে গঠনকারী পাত সীমানা বলা হয়।
৭) অভিসারী পাত সীমানাকে কেন বিনাশকারী পাত সীমানা বলা হয়?
উত্তর: অভিসারী পাত সীমানায় দুটি পাত পরস্পরের দিকে অগ্রসর হয়। একে বিনাশকারী পাত সীমানা বলা হয় কারণ—
- দুটি পাতের সংঘর্ষে ভারী পাতটি হালকা পাতের নিচে প্রবেশ করে এবং নিমজ্জিত অংশটি ধীরে ধীরে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।
- এই অঞ্চলে ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেশি ঘটে, যা এই সীমান্তকে ক্রমাগত অস্থিতিশীল করে তোলে।
৮) 'আ আ' ও 'পা হো হো' কী?
উত্তর:
- 'আ আ': ইন্দোনেশিয়ার আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত একটি গাঢ় ও অর্ধতরল লাভা, যা খুব বেশি দূর প্রবাহিত হতে পারে না। হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের ভাষায় একে 'আ আ' বলা হয়।
- 'পা হো হো': হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত একটি পাতলা ও দ্রুত প্রবাহিত লাভা, যা অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। এই লাভাকে স্থানীয় ভাষায় 'পা হো হো' বলা হয়।
✍️ রচনাধর্মী প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-৫):
১) পাত কী? পাতসংস্থান তত্ত্ব ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: পৃথিবীর উপরিভাগের কঠিন, অনমনীয় ও চলনশীল খণ্ডগুলিকে পাত বলা হয়।
পাত সংস্থান তত্ত্বটি ১৯৬০-এর দশকে বিকশিত হয়, যা আলফ্রেড ওয়েগনারের মহীসঞ্চরণ তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে গঠিত। এই তত্ত্বের উন্নয়নে পিঁচো, উইলসন, ম্যাকেনজি, পার্কার এবং মর্গান প্রভৃতি ভূবিজ্ঞানীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। এই তত্ত্বের প্রধান ভিত্তি হল মহাদেশগুলির সঞ্চরণ এবং সমুদ্রতলের সম্প্রসারণ।
মূল বিষয়বস্তু:
- শিলামণ্ডলের উপরিভাগ কয়েকটি বড় ও ছোট পাতের দ্বারা গঠিত।
- গুরুমণ্ডলের তাপে সৃষ্ট পরিচলন স্রোতের ফলে পাতগুলো ধীরে ধীরে সঞ্চারিত হয়।
- পৃথিবীর শিলামণ্ডল সাতটি প্রধান পাত, চারটি মাঝারি পাত ও বিশটিরও বেশি ছোটো পাত নিয়ে গঠিত।
এর প্রভাব:
- দুটি পাত দূরে সরে গেলে ভূমিকম্প ও পরে অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।
- দুটি সামুদ্রিক পাত দূরে সরে গেলে সমুদ্রের আয়তন বৃদ্ধি পায়।
- সামুদ্রিক ও মহাদেশীয় পাতের সংঘর্ষে দ্বীপপুঞ্জ গঠিত হয়।
- দুটি মহাদেশীয় পাতের সংঘর্ষে ভাঁজ পর্বতের সৃষ্টি হয়।
২) ভূমিকম্প কীভাবে ঘটে? এর কারণ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ভূমিকম্প হল পৃথিবীর অভ্যন্তরে সঞ্চিত শক্তির হঠাৎ মুক্তির ফলে সৃষ্ট কম্পন, যা ভূত্বকে স্পন্দন সৃষ্টি করে। এর কারণ দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত:
প্রাকৃতিক কারণ:
- পাত সঞ্চালন: ভূত্বকের বিভিন্ন পাত সবসময় সঞ্চালিত হয়। কখনো তারা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, আবার কখনো একে অপরের থেকে দূরে সরে যায়। এই প্রক্রিয়ার ফলে ভূ-অভ্যন্তরের শক্তি মুক্ত হয়ে ভূমিকম্প সৃষ্টি করে।
- অগ্ন্যুৎপাত: আগ্নেয়গিরি থেকে লাভা নির্গত হওয়ার সময় ভূ-অভ্যন্তরের ব্যাপক চাপ হ্রাস হয়, যা ভূমিকম্পের কারণ হতে পারে।
মানবসৃষ্ট কারণ:
- পাহাড় কেটে রাস্তা নির্মাণ: রাস্তা নির্মাণের জন্য ডিনামাইট বিস্ফোরণ ঘটানো হয়, যা ভূত্বকের স্থিতিশীলতা নষ্ট করে এবং ভূমিকম্পের কারণ হতে পারে।
- বোমা বিস্ফোরণ: পারমাণবিক বা হাইড্রোজেন বোমার বিস্ফোরণের ফলে ভূত্বকে প্রচণ্ড কম্পন সৃষ্টি হয়, যা ভূমিকম্পের সৃষ্টি করতে পারে।
<<<<<<<<<<<<<<🌹সমাপ্ত🌹>>>>>>>>>>>>>

