🌹অষ্টম শ্রেণির ভূগোল প্রশ্নোত্তর::অধ্যায়-১: পৃথিবীর অন্দরমহল🌹

✍️বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-১):

১. সিয়াল ও সিমা স্তরের মাঝখানে কোন্ রেখাটি অবস্থিত?
ক) গুটেনবার্গ রেখা খ) কনরাড বিযুক্তি রেখা গ) মোহো রেখা ঘ) সিমা রেখা।
উত্তর: খ) কনরাড বিযুক্তিরেখা।

২. গুরুমণ্ডলের উপাদানগুলির মধ্যে কোনটি নেই?
ক) লোহা খ) সিলিকন গ) হাইড্রোজেন ঘ) ম্যাগনেশিয়াম।
উত্তর: গ) হাইড্রোজেন।

৩. গুরুমণ্ডল ও ভূত্বকের মধ্যে কোন্ স্তরটি অবস্থিত?
ক) গুটেনবার্গ রেখা খ) মোহোরোভিসিক রেখা গ) কনরাড রেখা ঘ) সিমা স্তর।
উত্তর: খ) মোহোরোভিসিক রেখা।

৪. ভূত্বকের নিচে কোন স্তরটি রয়েছে?
ক) সিয়াল খ) কেন্দ্রমণ্ডল গ) গুরুমণ্ডল ঘ) সিমা।
উত্তর: গ) গুরুমণ্ডল।

৫. সিমা স্তরের অবস্থান কোথায়?
ক) মহাসাগরের তলদেশে খ) পাহাড়ের নীচে গ) কেন্দ্রমণ্ডলের উপরে ঘ) সিয়াল স্তরের উপরে।
উত্তর: ক) মহাসাগরের তলদেশে।

৬. সিমা স্তরটি গঠিত হয়েছে কোন্ জাতীয় শিলা দিয়ে?
ক) গ্রানাইট খ) ব্যাসল্ট গ) চুনাপাথর ঘ) মার্বেল।
উত্তর: খ) ব্যাসল্ট।

৭. সিয়াল স্তরের গঠন কী কী উপাদান দিয়ে?
ক) সিলিকন ও নিকেল খ) সিলিকন ও অ্যালুমিনিয়াম গ) লোহা ও ম্যাগনেশিয়াম ঘ) ক্রোমিয়াম ও লোহা।
উত্তর: খ) সিলিকন ও অ্যালুমিনিয়াম।

৮. সিয়াল স্তরটি কোন্ জাতীয় শিলা দিয়ে গঠিত?
ক) ব্যাসল্ট খ) চুনাপাথর গ) গ্রানাইট ঘ) মার্বেল।
উত্তর: গ) গ্রানাইট।

৯. কেন্দ্রমণ্ডলের পুরুত্ব কত?
ক) ২৯০০ কিমি খ) ৩৫০০ কিমি গ) ৫১০০ কিমি ঘ) ৬৩৭০ কিমি।
উত্তর: খ) ৩৫০০ কিমি।

১০. কেন্দ্রমণ্ডলের গড় তাপমাত্রা কত?
ক) ৫০০ ° সেলসিয়াস খ) ১০০০ ° সেলসিয়াস গ) ৫০০০ ° সেলসিয়াস ঘ) ৭০০০ ° সেলসিয়াস।
উত্তর: গ) ৫০০০ ° সেলসিয়াস।

১১. অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডলের গভীরতা কোন রেঞ্জের মধ্যে রয়েছে?
ক) ২৯০০-৫১০০ কিমি খ) ৫১০০-৬৩৭০ কিমি গ) ৩৫০০-৫১০০ কিমি ঘ) ১০০০-৩৫০০ কিমি।
উত্তর: খ) ৫১০০-৬৩৭০ কিমি।

১২. বহিঃকেন্দ্রমণ্ডলের পুরুত্ব কত?
ক) ১০০০-২৯০০ কিমি খ) ২৯০০-৫১০০ কিমি গ) ৫১০০-৬৩৭০ কিমি ঘ) ০-১০০০ কিমি।
উত্তর: খ) ২৯০০-৫১০০ কিমি।

১৩. আপেলের কোন্ অংশ গুরুমণ্ডলের সাথে তুলনীয়?
ক) খোসা খ) শাঁস গ) বিচি ঘ) কেন্দ্র।
উত্তর: খ) শাঁস।

১৪. পৃথিবীর গড় ব্যাসার্ধ কত?
ক) ২৯০০ কিমি খ) ৫১০০ কিমি গ) ৬৩৭০ কিমি ঘ) ৩৫০০ কিমি।
উত্তর: গ) ৬৩৭০ কিমি।

১৫. পৃথিবীর গভীরতম খনির গভীরতা কত?
ক) ৩-৪ কিমি খ) ১২ কিমি গ) ৫১০০ কিমি ঘ) ৬৩৭০ কিমি।
উত্তর: ক) ৩-৪ কিমি।

১৬. পৃথিবীর কৃত্রিম গভীরতম গর্ত কোথায় অবস্থিত?
ক) আমেরিকা খ) রাশিয়া গ) চীন ঘ) ভারত।
উত্তর: খ) রাশিয়া।

১৭. প্রতি ৩৩ মিটার ভূগর্ভে নামলে তাপমাত্রা কত বৃদ্ধি পায়?
ক) ১ ° সেলসিয়াস খ) ৫ ° সেলসিয়াস গ) ১০ ° সেলসিয়াস ঘ) ২ ° সেলসিয়াস।
উত্তর: ক) ১ ° সেলসিয়াস।

১৮. গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডলের মাঝে কোন্ রেখাটি রয়েছে?
ক) কনরাড রেখা খ) গুটেনবার্গ রেখা গ) মোহো রেখা ঘ) সিমা রেখা।
উত্তর: খ) গুটেনবার্গ রেখা।

১৯. আগ্নেয়গিরির মুখ থেকে কোন্ পদার্থ বের হয়?
ক) ঠাণ্ডা জল খ) গলিত লাভা গ) সিলিকন ধূলিকণা ঘ) হিমবাহ।
উত্তর: খ) গলিত লাভা।

২০. উষ্ণ প্রস্রবণ থেকে ভূগর্ভের কী নির্গত হয়?
ক) গলিত লাভা খ) ফুটন্ত জল গ) ধাতব শিলা ঘ) চুনাপাথর।
উত্তর: খ) ফুটন্ত জল।

২১. লাভা আসলে কী?
ক) গলিত লাভা খ) গলিত অর্ধতরল পদার্থ গ) গ্যাস মিশ্রিত তরল ঘ) শক্ত পদার্থ।
উত্তর: খ) গলিত অর্ধতরল পদার্থ।

২২. কোন পদার্থ গলিত অবস্থায় ভূপৃষ্ঠে বেরিয়ে এলে তাকে কী বলা হয়?
ক) গলিত ম্যাগমা খ) গলিত সিলিকা গ) ঠাণ্ডা জল ঘ) গরম গ্যাস।
উত্তর: ক) গলিত ম্যাগমা।

২৩. একক আয়তনে পদার্থের ভর পরিমাপকে কী বলা হয়?
ক) তাপমাত্রা খ) ঘনত্ব গ) আয়তন ঘ) গতি।
উত্তর: খ) ঘনত্ব।

২৪. পৃথিবীর অভ্যন্তরের গুরুমণ্ডল ও ভূত্বক পরবর্তী স্তরটিকে কী বলা হয়?
ক) কেন্দ্রমণ্ডল খ) ভূস্তরের গভীরতা গ) পৃথিবীর বাইরের স্তর ঘ) কেন্দ্রীয় স্তর।
উত্তর: ক) কেন্দ্রমণ্ডল।

২৫. ক্রোফেসিমা ও নিফেসিমার মধ্যে কোন রেখাটি বিভক্ত করেছে?
ক) রেপিত্তি রেখা খ) কনরাড রেখা গ) মোহো রেখা ঘ) গুটেনবার্গ রেখা।
উত্তর: ক) রেপিত্তি রেখা।

২৬. পৃথিবী সৃষ্টি হওয়ার সময়কাল সম্পর্কে কী জানানো হয়?
ক) ৩৬০ কোটি বছর আগে খ) ৪৬০ কোটি বছর আগে গ) ৬০০ কোটি বছর আগে ঘ) ২২০ কোটি বছর আগে।
উত্তর: খ) ৪৬০ কোটি বছর আগে।

২৭. তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে পদার্থের কী পরিবর্তন ঘটে?
ক) তরল থেকে গ্যাসে পরিণত হয় খ) পদার্থ গলে তরলে পরিণত হয় গ) আয়তনে কমে যায় ঘ) তাপমাত্রা কমে যায়।
উত্তর: খ) পদার্থ গলে তরলে পরিণত হয়।

২৮. পৃথিবীর অভ্যন্তরে চাপ ও তাপ কোথায় সবচেয়ে বেশি থাকে?
ক) মহাসাগরের তলদেশে খ) পৃথিবীর অভ্যন্তরে গ) মঙ্গল গ্রহে ঘ) দক্ষিণ মেরুতে।
উত্তর: খ) পৃথিবীর অভ্যন্তরে।

২৯. পশ্চিমবঙ্গের কোন স্থানে ভূগর্ভের গরম জল প্রস্রবণ রয়েছে?
ক) বক্রেশ্বরে খ) কোলকাতায় গ) সিলিগুড়ি ঘ) দার্জিলিং।
উত্তর: ক) বক্রেশ্বরে।

৩০. ভূপৃষ্ঠের গড় ঘনত্ব সম্পর্কে কি বলা হয়?
ক) ৩.৩ গ্রাম/ঘন সেমি খ) ২.৬ গ্রাম/ঘন সেমি গ) ১.৮ গ্রাম/ঘন সেমি ঘ) ৪.০ গ্রাম/ঘন সেমি।
উত্তর: খ) ২.৬ গ্রাম/ঘন সেমি।

৩১. পৃথিবীর কেন্দ্রীয় স্তরের কাছাকাছি পদার্থের ঘনত্ব কেমন হয়?
ক) ১০ গ্রাম/ঘন সেমি খ) ১১ গ্রাম/ঘন সেমি গ) ১২ গ্রাম/ঘন সেমি ঘ) ১৫ গ্রাম/ঘন সেমি।
উত্তর: খ) ১১ গ্রাম/ঘন সেমি।

৩২. পৃথিবীকে কৃত্রিম উপগ্রহের দৃষ্টিকোণ থেকে কত ঘনত্ব মাপা হয়?
ক) ৬ গ্রাম/ঘন সেমি খ) ৫.৫ গ্রাম/ঘন সেমি গ) ৪.৫ গ্রাম/ঘন সেমি ঘ) ৩.৫ গ্রাম/ঘন সেমি।
উত্তর: খ) ৫.৫ গ্রাম/ঘন সেমি।

৩৩. কোন তরঙ্গ তরল বা অর্ধতরল পদার্থের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে না?
ক) P তরঙ্গ খ) S তরঙ্গ গ) R তরঙ্গ ঘ) L তরঙ্গ।
উত্তর: খ) S তরঙ্গ।

৩৪. ‘জার্নি টু দ্য সেন্টার অফ দ্য আর্থ’ নামক কল্পবিজ্ঞানের গল্পটি কে লিখেছেন?
ক) সি. সি. বেল্ল খ) আইজ্যাক আসিমভ গ) জুল ভার্ন ঘ) আর্নেস্ট হেমিংওয়ে।
উত্তর: গ) জুল ভার্ন।

৩৫. পৃথিবীর গড় ব্যাসার্ধ কত?
ক) ৬৩৭০ কিমি খ) ৬৫০০ কিমি গ) ৭০০০ কিমি ঘ) ৫০০০ কিমি।
উত্তর: ক) ৬৩৭০ কিমি।

৩৬. পৃথিবীর কোন স্তরটি সবচেয়ে বড় আয়তন জুড়ে বিস্তৃত?
ক) ভূত্বক খ) গুরুমণ্ডল গ) কেন্দ্রমণ্ডল ঘ) সিমা স্তর।
উত্তর: খ) গুরুমণ্ডল।

৩৭. বক্রেশ্বরের ভূগর্ভের জলকে কী বলা হয়?
ক) ভূমিলন জল খ) ভূমা জল গ) ভৌমজল ঘ) হটস্প্রিং।
উত্তর: গ) ভৌমজল।

৩৮. ভূ-তাপ কী?
ক) এক ধরনের শক্তি খ) একটি প্রাকৃতিক তাপমাত্রা গ) একটি উষ্ণ জলস্তর ঘ) একটি ভূতত্ত্ব বিষয়।
উত্তর: ক) এক ধরনের শক্তি।

৩৯. ভূ-তাপ শক্তি থেকে কী উৎপন্ন করা হয়?
ক) বিদ্যুৎ খ) গ্যাস গ) তেল ঘ) তাপ।
উত্তর: ক) বিদ্যুৎ।

৪০. আইসল্যান্ডের বিদ্যুৎ চাহিদার কত শতাংশ ভূ-তাপ শক্তি পূর্ণ করে?
ক) ২০% খ) ৩০% গ) ৪০% ঘ) ৫০%।
উত্তর: খ) ৩০%।

৪১. পৃথিবীর মধ্যে কোন দেশ সবচেয়ে বেশি ভূ-তাপ শক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন?
ক) চীন খ) যুক্তরাষ্ট্র গ) আইসল্যান্ড ঘ) ভারত।
উত্তর: খ) যুক্তরাষ্ট্র।

৪২. ভূ-তাপ শক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ফলে কোন ধরনের জ্বালানির ব্যবহার কমে যায়?
ক) জীবাশ্ম জ্বালানি খ) সৌর শক্তি গ) পারমাণবিক শক্তি ঘ) জলবিদ্যুৎ শক্তি।
উত্তর: ক) জীবাশ্ম জ্বালানি।

৪৩. গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডলের মধ্যে কোন বিযুক্তিরেখা রয়েছে?
ক) মোহো রেখা খ) গুটেনবার্গ রেখা গ) রেপিত্তি রেখা ঘ) কনরাড রেখা।
উত্তর: খ) গুটেনবার্গ রেখা।

৪৪. ক্রোফেসিমা ও নিফেসিমার মধ্যে কোন বিযুক্তিরেখা রয়েছে?
ক) গুটেনবার্গ রেখা খ) রেপিত্তি রেখা গ) সিমা রেখা ঘ) মোহো রেখা।
উত্তর: খ) রেপিত্তি রেখা।

৪৫. ভূগর্ভের উষ্ণতা কত হারে বৃদ্ধি পায়?
ক) প্রতি ৫০ মিটার গভীরতায় ১° সেলসিয়াস খ) প্রতি ১০০ মিটার গভীরতায় ২° সেলসিয়াস গ) প্রতি ৩৩ মিটার গভীরতায় ১° সেলসিয়াস ঘ) প্রতি ২৫ মিটার গভীরতায় ০.৫° সেলসিয়াস।
উত্তর: গ) প্রতি ৩৩ মিটার গভীরতায় ১° সেলসিয়াস।

৪৬. ক্লোফেসিমা স্তর কি?
ক) লোহা ও সিলিকনের আধিক্য খ) ক্রোমিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের আধিক্য গ) নিকেল ও লোহা প্রাধান্য ঘ) সিলিকন ও ম্যাগনেশিয়ামের আধিক্য।
উত্তর: খ) ক্রোমিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের আধিক্য।

৪৭. নিফেসিমা স্তর কি?
ক) গুরুমণ্ডলের ৩০০ কিমি পর্যন্ত স্তর খ) গুরুমণ্ডলের ৭০০-২৯০০ কিমি পর্যন্ত স্তর গ) ভূত্বক স্তর ঘ) কেন্দ্রমণ্ডলের স্তর।
উত্তর: খ) গুরুমণ্ডলের ৭০০-২৯০০ কিমি পর্যন্ত স্তর।

৪৮. পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর কৃত্রিম গর্ত কোথায় অবস্থিত এবং এর গভীরতা কত?
ক) রাশিয়া, ১২ কিমি খ) আমেরিকা, ১৫ কিমি গ) দক্ষিণ আফ্রিকা, ২০ কিমি ঘ) রাশিয়া, ১২ কিমি।
উত্তর: ক) রাশিয়া, ১২ কিমি।

৪৯. পৃথিবীর অভ্যন্তর সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা কেন কঠিন?
ক) পৃথিবীর অভ্যন্তরে তরঙ্গ প্রবাহিত হতে পারে না খ) উচ্চ তাপমাত্রার কারণে যন্ত্রপাতি গলে যায় গ) ভূমিকম্পের কারণে তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন ঘ) অন্ধকারের কারণে তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন।
উত্তর: খ) উচ্চ তাপমাত্রার কারণে যন্ত্রপাতি গলে যায়।

৫০. পৃথিবী কখন সৃষ্টি হয়েছিল?
ক) ৪০০ কোটি বছর আগে খ) ৪৬০ কোটি বছর আগে গ) ৫০০ কোটি বছর আগে ঘ) ৩৫০ কোটি বছর আগে।
উত্তর: খ) ৪৬০ কোটি বছর আগে।

৫১. ম্যাগমা কি?
ক) গ্যাসের মিশ্রণ খ) গলিত পাথর গ) গরম তরল পদার্থ ঘ) কঠিন পদার্থ।
উত্তর: খ) গলিত পাথর।

৫২. লাভা কি?
ক) ভূগর্ভের গলিত পদার্থ খ) ভূত্বকের নিচে গলিত পদার্থ গ) গরম তরল পদার্থ ঘ) গলিত পদার্থ যা ভূ-পৃষ্ঠে বের হয়।
উত্তর: ঘ) গলিত পদার্থ যা ভূ-পৃষ্ঠে বের হয়।

৫৩. উষ্ণপ্রস্রবণ কাকে বলা হয়?
ক) গরম পানির উৎস খ) ভূগর্ভের মিথেন গ্যাস গ) ভূগর্ভের তরল পদার্থ ঘ) পৃথিবী থেকে গ্যাসের নির্গমন।
উত্তর: ক) গরম জলের উৎস।

৫৪. পশ্চিমবঙ্গের কোথায় উষ্ণ প্রস্রবণ রয়েছে?
ক) শিলিগুড়ি খ) দার্জিলিং গ) বক্রেশ্বর ঘ) মালদা।
উত্তর: গ) বক্রেশ্বর।

৫৫. পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত দেখতে গেলে কত গভীর গর্ত খুঁড়তে হবে?
ক) ৬০০০ কিমি খ) ৬৩৭০ কিমি গ) ৫০০০ কিমি ঘ) ৭০০০ কিমি।
উত্তর: খ) ৬৩৭০ কিমি।

৫৬. পৃথিবীর ভেতরটা কেমন তা কতটা জানা সম্ভব হয়েছে?
ক) পুরোপুরি জানা গেছে খ) কিছুটা জানা গেছে গ) মোটামুটি জানা গেছে ঘ) একদম জানা যায়নি।
উত্তর: গ) মোটামুটি জানা গেছে।

৫৭. বিযুক্তিরেখা কাকে বলা হয়?
ক) তরঙ্গের গতিবেগ পরিবর্তন খ) ভূগর্ভের সীমানা গ) পৃথিবীর কেন্দ্রের মাপ ঘ) ভূমিকম্পের কেন্দ্র।
উত্তর: ক) তরঙ্গের গতিবেগ পরিবর্তন।

৫৮. পৃথিবীর ব্যাসার্ধ কত?
ক) ৫০০০ কিমি খ) ৬৩৭০ কিমি গ) ৭০০০ কিমি ঘ) ৪৫০০ কিমি।
উত্তর: খ) ৬৩৭০ কিমি।

৫৯. ভূপৃষ্ঠ থেকে পৃথিবীর কেন্দ্রের দূরত্ব কত?
ক) ৭০০০ কিমি খ) ৬৩০০ কিমি গ) ৬৩৭০ কিমি ঘ) ৫০০০ কিমি।
উত্তর: গ) ৬৩৭০ কিমি।

৬০. পৃথিবীর গভীরতম খনি কোনটি?
ক) দক্ষিণ আফ্রিকার রবিনসন ডীপ খ) রাশিয়ার কোলা খনি গ) চীনের তিয়ানসিন খনি ঘ) আমেরিকার কেনটাকি খনি।
উত্তর: ক) দক্ষিণ আফ্রিকার রবিনসন ডীপ।

৬১. মহাদেশের নিচে ভূত্বকের গড় গভীরতা কত?
ক) ৩০ কিমি খ) ৫০ কিমি গ) ৬০ কিমি ঘ) ৭০ কিমি।
উত্তর: গ) ৬০ কিমি।

৬২. ভূত্বকের গড় গভীরতা কত?
ক) ২০ কিমি খ) ২৫ কিমি গ) ৩০ কিমি ঘ) ৩৫ কিমি।
উত্তর: গ) ৩০ কিমি।

৬৩. মহাসাগরের নিচে ভূত্বককে কি বলা হয়?
ক) SIMA খ) SIAL গ) গ্রানাইট ঘ) শিলাজি।
উত্তর: ক) SIMA।

৬৪. SIMA স্তরটি কোন ধরনের শিলা দিয়ে তৈরি?
ক) গ্রানাইট খ) ব্যাসাল্ট গ) শিলাজি ঘ) চুনাপাথর।
উত্তর: খ) ব্যাসাল্ট।

৬৫. SIMA স্তরের আরেক নাম কি?
ক) মহাসাগরীয় ভূত্বক খ) মহাদেশীয় ভূত্বক গ) উপকূলবর্তী ভূত্বক ঘ) অন্তঃভূত স্তর।
উত্তর: ক) মহাসাগরীয় ভূত্বক।

৬৬. মহাদেশের নিচে ভূত্বককে কী বলা হয়?
ক) SIAL খ) SIMA গ) শিলা স্তর ঘ) কোর স্তর।
উত্তর: ক) SIAL।

৬৭. SIAL স্তরটি কোন ধরনের শিলা দিয়ে গঠিত?
ক) ব্যাসাল্ট খ) গ্রানাইট গ) শিলাজি ঘ) চুনাপাথর।
উত্তর: খ) গ্রানাইট।

৬৮. SIAL স্তরের আরেক নাম কি?
ক) মহাসাগরীয় ভূত্বক খ) মহাদেশীয় ভূত্বক গ) ভূতত্ত্ব স্তর ঘ) গহীনের স্তর।
উত্তর: খ) মহাদেশীয় ভূত্বক।

৬৯. পৃথিবীর কেন্দ্রের গড় ঘনত্ব কী?
ক) ১২-১৩ গ্রাম/ঘন সেমি খ) ১৩-১৪ গ্রাম/ঘন সেমি গ) ১৪-১৫ গ্রাম/ঘন সেমি ঘ) ১৫-১৬ গ্রাম/ঘন সেমি।
উত্তর: খ) ১৩-১৪ গ্রাম/ঘন সেমি।

৭০. পৃথিবীর কেন্দ্রের কাছে থাকা পদার্থের ঘনত্ব বেশি কেন?
ক) ভারী পদার্থগুলি পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে চলে যায় খ) সিলিকন বেশি থাকে গ) অ্যালুমিনিয়াম বেশি থাকে ঘ) পদার্থের চাপ বেশি থাকে।
উত্তর: ক) ভারী পদার্থগুলি পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে চলে যায়।

৭১. পৃথিবীর অভ্যন্তর সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা কীভাবে তথ্য সংগ্রহ করেছেন?
ক) ভূমিকম্পের তরঙ্গের গতি পর্যালোচনা খ) আগ্নেয়গিরির লাভা পর্যবেক্ষণ গ) ভূগর্ভের গঠন পরীক্ষা ঘ) উত্তাপ পরিমাপ।
উত্তর: ক) ভূমিকম্পের তরঙ্গের গতি পর্যালোচনা।

৭২. কোন ভূমিকম্প তরঙ্গ শুধুমাত্র কঠিন পদার্থের মধ্য দিয়ে চলতে পারে?
ক) P তরঙ্গ খ) S তরঙ্গ গ) L তরঙ্গ ঘ) R তরঙ্গ।
উত্তর: খ) S তরঙ্গ।

৭৩. P তরঙ্গ কী ধরনের পদার্থের মধ্য দিয়ে চলতে পারে?
ক) শুধুমাত্র কঠিন খ) কঠিন ও তরল গ) কঠিন, তরল ও গ্যাস ঘ) কঠিন ও গ্যাস।
উত্তর: খ) কঠিন ও তরল।

৭৪. "Journey to the Centre of the Earth" বইটি কে লিখেছেন?
ক) চার্লস ডিকেন্স খ) জুল ভার্ন গ) হেমিংওয়ে ঘ) উইলিয়াম শেকসপিয়ার।
উত্তর: খ) জুল ভার্ন।

৭৫. সিমা ও সিয়াল স্তরের মধ্যে কোন রেখাটি বিচ্ছেদ সৃষ্টি করে?
ক) গুটেনবার্গ রেখা খ) কনরাড রেখা গ) লেহমান রেখা ঘ) সিমা রেখা।
উত্তর: খ) কনরাড রেখা।

৭৬. ভূত্বকের মধ্যে অক্সিজেনের পরিমাণ কত শতাংশ?
ক) ৪৭% খ) ৫০% গ) ৪৫% ঘ) ৬০%।
উত্তর: ক) ৪৭%।

৭৭. ভূত্বকের প্রধান উপাদান কি?
ক) সিলিকন খ) অক্সিজেন গ) লোহা ঘ) ম্যাগনেসিয়াম।
উত্তর: খ) অক্সিজেন।

৭৮. ভূত্বকের দ্বিতীয় প্রধান উপাদান কী?
ক) সিলিকন খ) লোহা গ) ম্যাগনেসিয়াম ঘ) অ্যালুমিনিয়াম।
উত্তর: ক) সিলিকন।

৭৯. গুরুমন্ডল এবং কেন্দ্রমন্ডলের মধ্যে কোন রেখাটি বিচ্ছেদ সৃষ্টি করে?
ক) গুটেনবার্গ রেখা খ) কনরাড রেখা গ) শিলাজি রেখা ঘ) সিমা রেখা।
উত্তর: ক) গুটেনবার্গ রেখা।

৮০. অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডল এবং বহিঃকেন্দ্রমণ্ডলের মধ্যে কোন রেখাটি বিচ্ছেদ সৃষ্টি করে?
ক) গুটেনবার্গ রেখা খ) লেহমান রেখা গ) সিমা রেখা ঘ) রেপিট্টি রেখা।
উত্তর: খ) লেহমান রেখা।

৮১. বিযুক্তি রেখা কী?
ক) যে রেখায় ভূমিকম্পের তরঙ্গের গতিবেগ পরিবর্তন হয় খ) ভূগর্ভের সীমানা গ) শিলা স্তর ঘ) সেমি-গলিত স্তর।
উত্তর: ক)যে রেখায় ভূমিকম্পের তরঙ্গের গতিবেগ পরিবর্তন।

✍️অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-১):

১. ক্রোফেসিমা এবং নিফেসিমার মধ্যে কোন বিযুক্তিরেখা আছে?
উত্তর: ক্রোফেসিমা এবং নিফেসিমার মধ্যে রেপেত্তি বিযুক্তি রেখা রয়েছে।

২. কেন্দ্রমণ্ডল কাকে বলা হয়?
উত্তর: ভূত্বক এবং গুরুমণ্ডলের পরবর্তী স্তর, যা পৃথিবীর কেন্দ্রকে ঘিরে রয়েছে, তাকে কেন্দ্রমণ্ডল বলা হয়।

৩. ঘনত্ব কাকে বলা হয়?
উত্তর: কোনো পদার্থের একক আয়তনে যে পরিমাণ ভর রয়েছে, তা ঘনত্ব হিসেবে গণ্য হয়।

৪. লাভা কী?
উত্তর: ভূগর্ভের গলিত ম্যাগমা যখন ভূপৃষ্ঠের বাইরে বের হয়ে আসে, তখন তাকে লাভা বলা হয়।

৫. ম্যাগমা কী?
উত্তর: ভূগর্ভে গ্যাস এবং বাষ্প মিশ্রিত গলিত পদার্থকে ম্যাগমা বলা হয়, যা প্রচণ্ড চাপ এবং তাপে থাকে।

৬. গুরুমণ্ডল এবং কেন্দ্রমণ্ডলের মধ্যে কোন রেখা রয়েছে?
উত্তর: গুরুমণ্ডল এবং কেন্দ্রমণ্ডলের মধ্যে গুটেনবার্গ বিযুক্তি রেখা রয়েছে।

৭. বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল কতটা পুরু?
উত্তর: বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল ২৯০০ কিমি থেকে ৫১০০ কিমি পুরু।

৮. অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডলের গভীরতা কত?
উত্তর: অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডলের গভীরতা ৫১০০ কিমি থেকে ৬৩৭০ কিমি পর্যন্ত।

৯. কেন্দ্রমণ্ডল কতটা পুরু এবং এর গড় তাপমাত্রা কত?
উত্তর: কেন্দ্রমণ্ডল ৩৫০০ কিমি পুরু এবং এর গড় তাপমাত্রা প্রায় ৫০০০°C।

১০. ভূত্বক এবং গুরুমণ্ডলের মধ্যে কোন স্তর রয়েছে?
উত্তর: ভূত্বক এবং গুরুমণ্ডলের মধ্যে মোহোরোভিসিক বিযুক্তি রেখা রয়েছে, যা মোহো নামে পরিচিত।

১১. গুরুমণ্ডলের প্রধান উপাদান কী কী?
উত্তর: গুরুমণ্ডলের প্রধান উপাদানগুলি হল লোহা (Fe), নিকেল (Ni), ক্রোমিয়াম (Cr), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), এবং সিলিকন (Si)।

১২. সিয়াল এবং সিমা স্তরের মধ্যে কোন রেখা রয়েছে?
উত্তর: সিয়াল এবং সিমা স্তরের মধ্যে কনরাড বিযুক্তি রেখা রয়েছে।

১৩. কোন রেখা দুটি ভিন্ন উপাদান ও ঘনত্বের স্তরকে আলাদা করে?
উত্তর: দুটি ভিন্ন স্তরকে আলাদা করে বিযুক্তি রেখা।

১৪. ভূত্বকের বেশিরভাগ অংশে কোন গ্যাস রয়েছে?
উত্তর: ভূত্বকের প্রায় ৪৭% অংশ অক্সিজেন গ্যাসে পরিপূর্ণ।

১৫. সিয়াল স্তরটি কোথায় অবস্থান করছে?
উত্তর: সিয়াল স্তরটি মহাসাগরের নিচে অবস্থিত সিমা স্তরের উপরে অবস্থান করছে।

১৬. কোন ধরনের শিলা সিয়াল স্তরটি গঠন করেছে?
উত্তর: সিয়াল স্তরটি গ্রানাইট জাতীয় আগ্নেয় শিলা দ্বারা গঠিত।

১৭. সিয়াল স্তরটি কী দিয়ে গঠিত?
উত্তর: সিয়াল স্তরটি সিলিকন (Si) এবং অ্যালুমিনিয়াম (Al) দিয়ে গঠিত।

১৮. সিমা স্তরটি প্রধানত কোন ধরনের শিলা দ্বারা গঠিত?
উত্তর: সিমা স্তরটি ব্যাসাল্ট জাতীয় আগ্নেয় শিলা দ্বারা গঠিত।

১৯. সিমা স্তরটি কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: সিমা স্তরটি মহাসাগরের নিচে অবস্থিত এবং এটি সিলিকন (Si) এবং ম্যাগনেসিয়াম (Mg) দ্বারা গঠিত।

২০. ভূত্বকের নিচে কী রয়েছে?
উত্তর: ভূত্বকের নিচে গুরুমণ্ডল রয়েছে।

২১. পৃথিবীর কেন্দ্রে পদার্থের গড় ঘনত্ব কত?
উত্তর: পৃথিবীর কেন্দ্রে পদার্থের গড় ঘনত্ব প্রায় ১১ গ্রাম প্রতি ঘন সেমি।

২২. ভূপৃষ্ঠের গড় ঘনত্ব কত?
উত্তর: ভূপৃষ্ঠের গড় ঘনত্ব প্রায় ২.৬ থেকে ৩.৩ গ্রাম প্রতি ঘন সেমি।

২৩. ভূ-তাপ শক্তি ব্যবহার করলে কীসের ব্যবহার কমানো সম্ভব?
উত্তর: ভূ-তাপ শক্তি ব্যবহারে জীবাশ্ম জ্বালানির, যেমন কয়লা এবং খনিজ তেলের, ব্যবহার কমানো সম্ভব।

২৪. কোন দেশ সবচেয়ে বেশি ভূ-তাপ শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে?
উত্তর: যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি ভূ-তাপ শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে।

২৫. আইসল্যান্ডের বিদ্যুৎ চাহিদার কত শতাংশ ভূ-তাপ শক্তি দ্বারা পূরণ হয়?
উত্তর: প্রায় ৩০% বিদ্যুৎ চাহিদা ভূ-তাপ শক্তি দ্বারা পূরণ হয়।

২৬. ভূ-তাপ শক্তি থেকে কী উৎপন্ন হয়?
উত্তর: ভূ-তাপ শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা যায়।

২৭. ভূ-তাপ কী?
উত্তর: ভূ-তাপ হল ভূগর্ভ থেকে নির্গত এক ধরনের শক্তি।

২৮. বক্রেশ্বরের উষ্ণ প্রস্রবণের জলকে কী বলা হয়?
উত্তর: একে পৃথিবীর ভূগর্ভস্থ জল বলা হয়।

২৯. পশ্চিমবঙ্গে কোথায় উষ্ণ প্রস্রবণ দেখা যায়?
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের বক্রেশ্বরে উষ্ণ প্রস্রবণ দেখা যায়।

৩০. পৃথিবীর কোথায় চাপ এবং তাপ সবচেয়ে বেশি থাকে?
উত্তর: পৃথিবীর গভীরে চাপ এবং তাপ সবচেয়ে বেশি থাকে।

৩১. তাপ বাড়লে পদার্থের কী পরিবর্তন ঘটে?
উত্তর: তাপ বাড়লে পদার্থ গলে তরলে পরিণত হয় এবং আয়তনে বৃদ্ধি পায়।

৩২. পৃথিবী কখন সৃষ্টি হয়েছিল?
উত্তর: পৃথিবী প্রায় ৪৬০ কোটি বছর আগে সৃষ্টি হয়েছিল।

৩৩. আগ্নেয়গিরির মুখ থেকে কী নির্গত হয়?
উত্তর: আগ্নেয়গিরির মুখ থেকে উত্তপ্ত গলিত লাভা বের হয়।

৩৪. উষ্ণ প্রস্রবণ থেকে কী বের হয়?
উত্তর: উষ্ণ প্রস্রবণ থেকে ফুটন্ত জল নির্গত হয়।

৩৫. পৃথিবীর গভীরতম কৃত্রিম গর্তটি কোথায়?
উত্তর: উত্তর-পশ্চিম রাশিয়ার কোলা উপদ্বীপে অবস্থিত পৃথিবীর গভীরতম কৃত্রিম গর্তটি প্রায় ১২ কিমি গভীর।

৩৬. ভূগর্ভে তাপ কীভাবে বৃদ্ধি পায়?
উত্তর: প্রতি ৩৩ মিটার গভীরে তাপমাত্রা ১° সেলসিয়াস করে বৃদ্ধি পায়।

৩৭. পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর খনির নাম কী এবং এটি কত গভীর?
উত্তর: পৃথিবীর বৃহত্তম খনি হলো রবিনসন দ্বীপ, যার গভীরতা ৩-৪ কিমি।

৩৮. ভূপৃষ্ঠ থেকে পৃথিবীর কেন্দ্রে যাওয়ার দূরত্ব কত?
উত্তর: ভূপৃষ্ঠ থেকে পৃথিবীর কেন্দ্রের দূরত্ব ৬৩৭০ কিমি।

৩৯. পৃথিবীর গড় ব্যাসার্ধ কত?
উত্তর: পৃথিবীর গড় ব্যাসার্ধ ৬৩৭০ কিমি।

৪০. আপেলের কোন অংশ গুরুমণ্ডলের সমান?
উত্তর: আপেলের খোসার নিচে থাকা শাঁস গুরুমণ্ডলের সঙ্গে তুলনীয়।

৪১. ভূগর্ভে উষ্ণতা কীভাবে বৃদ্ধি পায়?
উত্তর: ভূগর্ভে প্রতি ৩৩ মিটার গভীরতায় উষ্ণতা ১° সেলসিয়াস করে বাড়ে।

৪২. ক্রোফেসিমা ও নিফেসিমার মধ্যে কোন বিযুক্তিরেখা রয়েছে?
উত্তর: ক্রোফেসিমা ও নিফেসিমার মধ্যে রেপিত্তি বিযুক্তিরেখা রয়েছে।

৪৩. গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডলের মধ্যে কোন বিযুক্তিরেখা রয়েছে?
উত্তর: গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডলের মধ্যে গুটেনবার্গ বিযুক্তিরেখা অবস্থিত।

৪৪. পৃথিবীর কোন স্তরটি সবচেয়ে বেশি জায়গা দখল করেছে?
উত্তর: পৃথিবীর গুরুমণ্ডল স্তর সবচেয়ে বেশি স্থান দখল করেছে।

৪৫. পৃথিবীর গড় ব্যাসার্ধ কত?
উত্তর: পৃথিবীর গড় ব্যাসার্ধ ৬৩৭০ কিলোমিটার।

৪৬. বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞান কল্পকাহিনী "Journey to the Center of the Earth" কার লেখা?
উত্তর: জুল ভার্ন এই কল্পকাহিনীটি রচনা করেছেন।

৪৭. কোন তরঙ্গ তরল বা আধা তরল মাধ্যমে প্রবাহিত হতে অক্ষম?
উত্তর: এস তরঙ্গ তরল বা আধা তরল মাধ্যমে প্রবাহিত হতে পারে না।

৪৮. কৃত্রিম উপগ্রহের ভিত্তিতে পৃথিবীর গড় ঘনত্ব কত?
উত্তর: কৃত্রিম উপগ্রহের তথ্য অনুযায়ী পৃথিবীর গড় ঘনত্ব ৫.৫ গ্রাম প্রতি ঘন সেমি।

✍️সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-২):

১. বিযুক্তিরেখা কী?
উত্তর: ভূপৃষ্ঠ থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত ভূমিকম্পের তরঙ্গের গতিবেগ পরিবর্তনের অবস্থানগুলোকে বিযুক্তিরেখা বলা হয়।

২. পৃথিবীর অভ্যন্তর সম্পর্কে কী জানা সম্ভব হয়েছে?
উত্তর: পৃথিবীর অভ্যন্তরের গঠন সম্পর্কে পরোক্ষভাবে ধারণা পাওয়া গেলেও পুরোপুরি জানা সম্ভব হয়নি।

৩. পৃথিবীর কেন্দ্র দেখতে কত গভীর গর্ত খুঁড়তে হবে?
উত্তর: পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছাতে হলে প্রায় ৬৩৭০ কিলোমিটার গভীর গর্ত খুঁড়তে হবে।

৪. নিফেসিমা স্তর কী?
উত্তর: গুরুমণ্ডলের ৭০০ থেকে ২৯০০ কিলোমিটার গভীরতায় নিকেল, লোহা, সিলিকন এবং ম্যাগনেশিয়ামের আধিক্যের কারণে এটি নিফেসিমা (Ni + Fe + Si + Ma) স্তর নামে পরিচিত।

৫. ক্লোফেসিমা স্তর কী?
উত্তর: গুরুমণ্ডলের ৩০ থেকে ৭০০ কিলোমিটার গভীরতায় যেখানে ক্রোমিয়াম, লোহা, সিলিকন এবং ম্যাগনেশিয়ামের আধিক্য রয়েছে, সেই অংশকে ক্লোফেসিমা (Cro + Fe + Si + Ma) স্তর বলা হয়।

৬. বিযুক্তি রেখা কী এবং এর কার্যকারিতা কী?
উত্তর: ভূপৃষ্ঠ থেকে পৃথিবীর অভ্যন্তরে কেন্দ্র পর্যন্ত ভূমিকম্পের তরঙ্গের গতিবেগ যেখানে পরিবর্তিত হয়, সেটিই বিযুক্তি রেখা। এটি ভূগর্ভের ভিন্ন উপাদান ও ঘনত্বের স্তরগুলিকে পৃথক করতে ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ: সিয়াল এবং সিমা স্তরের মধ্যে কনরাড বিযুক্তি রেখা অবস্থান করে।

৭. ভূ-তাপশক্তি কী?
উত্তর: ভূ-তাপশক্তি হলো এমন একধরনের শক্তি, যা পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে তাপের আকারে ক্রমান্বয়ে বাইরের দিকে প্রবাহিত হয়। এই শক্তিকে ভূ-তাপশক্তি বলা হয়।

✍️সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-৩):

১. কেন পৃথিবীর কেন্দ্রের কাছে পদার্থগুলোর ঘনত্ব বেশি হয়?

উত্তর: পৃথিবী গঠনের সময় এটি অত্যন্ত উত্তপ্ত অবস্থায় ছিল। ঠান্ডা হওয়ার সময় ভারী উপাদান যেমন নিকেল ও লোহা কেন্দ্রের দিকে জমা হয়। গভীরে চাপ বাড়ার কারণে পদার্থ সংকুচিত হয়ে আরও ঘন হয়ে যায়। ফলে পৃথিবীর কেন্দ্রের কাছে পদার্থগুলোর ঘনত্ব বেশি হয়।

২. সিয়াল ও সিমা সম্পর্কে টীকা লেখ।

উত্তর:
সিয়াল এবং সিমা পৃথিবীর ভূত্বকের দুটি প্রধান স্তর।

  • সিয়াল: এটি ভূত্বকের উপরের স্তর। সিয়াল শব্দটি সিলিকা (Si) এবং অ্যালুমিনিয়া (Al) থেকে এসেছে। এই স্তরে গ্রানাইট জাতীয় শিলা পাওয়া যায়। এটি মহাদেশীয় ভূত্বকের অংশ।
  • সিমা: এটি সিয়ালের নিচে অবস্থিত। সিমা শব্দটি সিলিকা (Si) এবং ম্যাগনেশিয়া (Ma) থেকে এসেছে। এটি ব্যাসল্ট জাতীয় শিলা দ্বারা গঠিত এবং মহাসাগরের তলদেশে বেশি দেখা যায়।

সিয়াল এবং সিমার মাঝে কনরাড বিযুক্তিরেখা রয়েছে।

৩. পরিচলন স্রোত সৃষ্টি হয় কীভাবে?

উত্তর:
পৃথিবীর অভ্যন্তরের তাপমাত্রা অত্যন্ত বেশি হওয়ার কারণে গুরুমণ্ডলের কিছু অংশ গলিত অবস্থায় থাকে, যা ম্যাগমা হিসেবে পরিচিত। এই গলিত পদার্থের তাপমাত্রা বেশি হওয়ায় তা কম তাপমাত্রার অংশের তুলনায় বেশি পরিমাণে প্রসারিত হয় এবং হালকা হয়, ফলে এটি উপরের দিকে উঠে আসে। উপরের অংশে ঠান্ডা হয়ে এটি ভারী হয়ে নেমে যায়। এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে এবং গুরুমণ্ডলের ভিতরে একটি স্থায়ী চলমান স্রোত তৈরি হয়, যা পরিচলন স্রোত হিসেবে পরিচিত। এই স্রোত পৃথিবীর ভূত্বককে প্রভাবিত করে, যার ফলস্বরূপ ভূমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরির সৃষ্টি হয়।

৪. ম্যাগমা বলতে কী বোঝায়?

উত্তর:
ম্যাগমা হলো পৃথিবীর অভ্যন্তরের গলিত, উত্তপ্ত পদার্থ যা ভূগর্ভে অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রা ও চাপের কারণে গলিত অবস্থায় থাকে। এতে গ্যাস, বাষ্প এবং অন্যান্য উপাদান মিশ্রিত থাকে। যখন এটি ভূগর্ভের ফাটল বা আগ্নেয়গিরির মাধ্যমে পৃষ্ঠের দিকে উঠে আসে, তখন এটি লাভা হিসেবে পরিচিত হয়। ম্যাগমা মূলত গুরুমণ্ডলের নিচের স্তরে পাওয়া যায় এবং এর ঠান্ডা হওয়ার ফলে কঠিন শিলা তৈরি হয়।

৫. ম্যাগমা ও লাভার মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখ।

উত্তর:

বিষয়ম্যাগমালাভা
১️⃣ অবস্থানভূ-পৃষ্ঠের নিচে অবস্থান করে।ভূ-পৃষ্ঠের উপর অবস্থান করে।
২️⃣ গ্যাসের পরিমাণগ্যাসের পরিমাণ বেশি থাকে।গ্যাসের পরিমাণ কম থাকে।
৩️⃣ তাপমাত্রাতুলনামূলকভাবে বেশি।তুলনামূলকভাবে কম।

৬. কেন্দ্রমণ্ডল কাকে বলা হয়? কীসের উপর ভিত্তি করে কেন্দ্রমণ্ডলকে কটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে এবং কী কী?

উত্তর:
পৃথিবীর গুরুমণ্ডল স্তরের নিচে এবং কেন্দ্রের চারপাশে অবস্থিত ঘন পদার্থের স্তরকে কেন্দ্রমণ্ডল বলা হয়। কেন্দ্রমণ্ডলের গঠন ও বৈশিষ্ট্যগুলি পদার্থের ঘনত্ব, চাপ এবং তাপমাত্রার উপর ভিত্তি করে বিজ্ঞানীরা কেন্দ্রমণ্ডলকে দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করেছেন:
১. অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডল
২. বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল

৭. অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডল বলতে কী বোঝানো হয়?

উত্তর:
অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডল পৃথিবীর কেন্দ্রের চারপাশে অবস্থিত একটি স্তর, যার গভীরতা প্রায় ৫১০০ কিমি থেকে ৬৩৭০ কিমি। এই স্তরের চাপ, তাপমাত্রা এবং ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি। অত্যাধিক চাপের কারণে এখানে থাকা পদার্থগুলি কঠিন অবস্থায় থাকে।

৮. বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল বলতে কী বোঝানো হয়?

উত্তর:
অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডলের চারপাশে অবস্থিত স্তরটি বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল নামে পরিচিত। এই স্তরের পুরুত্ব প্রায় ২৯০০ কিমি থেকে ৫১০০ কিমি পর্যন্ত। এই স্তরের চাপ, তাপমাত্রা এবং ঘনত্ব অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডলের তুলনায় কম। এই স্তরের পদার্থ অর্ধ-কঠিন অবস্থায় থাকে এবং পৃথিবীর অক্ষের চারপাশে ঘোরে। এতে থাকা তাপমাত্রা এবং চাপের কারণে সেখানকার লোহা দ্রুত ঘুরে পৃথিবীর চৌম্বকীয় ক্ষেত্র সৃষ্টি করে।

৯. ভূমিকম্প তরঙ্গ কীভাবে সৃষ্টি হয়? এগুলি কীভাবে প্রবাহিত হয়?

উত্তর:
ভূ-অভ্যন্তরে কম্পন সৃষ্টি হলে ভূমিকম্পের তরঙ্গ সৃষ্টি হয়। ভূমিকম্পের দুটি প্রধান তরঙ্গ হলো P তরঙ্গ এবং S তরঙ্গ। P তরঙ্গ যেকোনো কঠিন বা তরল পদার্থের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে, তবে S তরঙ্গ শুধুমাত্র কঠিন পদার্থের মধ্য দিয়েই প্রবাহিত হতে পারে। ভূমিকম্পের তরঙ্গের গতি পদার্থের ধরন অনুসারে পরিবর্তিত হয় এবং এটি বিজ্ঞানীদের পৃথিবীর অভ্যন্তরের স্তর সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য প্রদান করে।

১০. নিফে কাকে বলে?

উত্তর:
নিফে হলো পৃথিবীর গুরুমণ্ডলের একটি স্তর, যা ৭০০ কিমি থেকে ২৯০০ কিমি গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত। এই স্তরে নিকেল (Ni), লোহা (Fe), সিলিকন (Si), এবং ম্যাগনেসিয়াম (Ma) উপাদানের আধিক্য দেখা যায়। নিফে স্তরের মধ্যে এই উপাদানগুলির উপস্থিতি পৃথিবীর অভ্যন্তরের গঠন এবং বৈশিষ্ট্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

✍️রচনাধর্মী প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-৫): 

১. কেন্দ্রমণ্ডল কাকে বলা হয়? কেন্দ্রমণ্ডলের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।

উত্তর:
কেন্দ্রমণ্ডল হল পৃথিবীর গভীরতম স্তর, যা গুরুমণ্ডলের নিচে অবস্থিত এবং পৃথিবীর কেন্দ্রকে ঘিরে রেখেছে। এটি সর্বাধিক ঘনত্বযুক্ত স্তর। কেন্দ্রমণ্ডলের গভীরতা প্রায় ২৯০০ কিমি থেকে ৬৩৭০ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত।

কেন্দ্রমণ্ডলের বৈশিষ্ট্যগুলি:

  • এটি প্রধানত নিকেল এবং লোহা দ্বারা গঠিত, তাই একে নিফে স্তরও বলা হয়।
  • কেন্দ্রমণ্ডলকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
    ১) অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডল – এটি কঠিন অবস্থায় থাকে।
    ২) বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল – এটি তরল বা অর্ধতরল অবস্থায় থাকে।
  • এই স্তরে তাপমাত্রা অত্যন্ত বেশি, যা প্রায় ৫০০০-৬০০০° সেলসিয়াস হতে পারে।
  • চাপ অত্যন্ত বেশি থাকার কারণে পদার্থের ঘনত্বও সর্বাধিক (প্রায় ১১ গ্রাম/ঘনসেমি)।
  • পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরিতে কেন্দ্রমণ্ডল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

২.পৃথিবীর অন্দরমহল সম্পর্কে যা জানো আলোচনা করো।

উত্তর:
পৃথিবীর অন্দরমহল মূলত কয়েকটি স্তরে বিভক্ত, যা একে অপরের থেকে গঠন ও বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে আলাদা। পৃথিবী প্রাথমিকভাবে একটি উত্তপ্ত গ্যাসীয় পিণ্ড হিসেবে গঠিত হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শীতল হয়ে ভারী উপাদানগুলি কেন্দ্রের দিকে এবং হালকা উপাদানগুলি বাইরে জমা হয়ে শক্ত আবরণ তৈরি করে। এই বহিরাবরণকে ভূত্বক বলা হয়।

ভূত্বক:
ভূত্বক হল পৃথিবীর সবচেয়ে বাইরের শক্ত স্তর। এটি শিলা এবং মৃত্তিকার স্তর নিয়ে গঠিত।

বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  • উৎপত্তি: শিলা ও মৃত্তিকা এর মূল উপাদান।
  • গভীরতা:
    • মহাদেশের নিচে ভূত্বকের গড় গভীরতা প্রায় ১৭ কিমি।
    • মহাসাগরের নিচে এটি প্রায় ৫-৭ কিমি।
  • স্তর বিন্যাস: ভূত্বক দুটি স্তরে বিভক্ত:
    • সিয়াল (সিলিকা ও অ্যালুমিনিয়ামের স্তর)।
    • সিমা (সিলিকা ও ম্যাগনেশিয়ামের স্তর)।

পৃথিবীর ঘনত্ব:

  • ভূপৃষ্ঠের গড় ঘনত্ব: ২.৬-৩.৩ গ্রাম/ঘন সেমি।
  • কেন্দ্রের কাছাকাছি অঞ্চলে ঘনত্ব: প্রায় ১১ গ্রাম/ঘন সেমি।
  • পৃথিবীর কেন্দ্রের ঘনত্ব: প্রায় ১৩ গ্রাম/ঘন সেমি।
  • কৃত্রিম উপগ্রহের বিচারে পৃথিবীর গড় ঘনত্ব: প্রায় ৫.৫ গ্রাম/ঘন সেমি।

পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে অভ্যন্তরের দিকে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চাপ এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা পদার্থের ঘনত্ব বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

 ৩.ভূ-অভ্যন্তরের স্তরবিন্যাস নিয়ে আলোচনা করো।

উত্তর:
পৃথিবীর অভ্যন্তর মূলত বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত, প্রতিটি স্তরের বৈশিষ্ট্য এবং উপাদান একে অপরের থেকে আলাদা। এই স্তরবিন্যাস পৃথিবীর গঠন সম্পর্কে আমাদের আরও ভালো ধারণা দেয়।

কেন্দ্রমণ্ডল (Core):

পৃথিবীর অভ্যন্তরের সবচেয়ে কেন্দ্রীয় এবং ঘন স্তর, যা প্রায় ২৯০০ কিমি থেকে ভূপৃষ্ঠের কেন্দ্রে পর্যন্ত বিস্তৃত। ভারী উপাদান যেমন লোহা ও নিকেলের সমাবেশে কেন্দ্রমণ্ডল গঠিত।

বৈশিষ্ট্য:

  • গভীরতা: প্রায় ৩৫০০ কিমি।
  • উপাদান: লোহা, নিকেল।
  • উষ্ণতা: আনুমানিক ৬০০০° সেলসিয়াস।
  • গঠন: লোহা (Fe) এবং নিকেল (Ni) থাকায় একে "নাইফে" বলা হয়।
  • বিশেষত্ব: এটি পৃথিবীর সবচেয়ে উষ্ণ এবং ঘন স্তর।

কেন্দ্রমণ্ডলের বিভাগ:

  • বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল:

    • সংজ্ঞা: এটি কেন্দ্রমণ্ডলের উপরিভাগ, যা প্রায় ২৯০০ কিমি থেকে ৫১০০ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত।
    • উপাদান: লোহা, নিকেল।
    • ঘনত্ব: প্রায় ১০-১২.৩১ গ্রাম/ঘন সেমি।
    • বৈশিষ্ট্য:
      ১. এই স্তরটি তরল অবস্থায় আছে।
      ২. পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র সৃষ্টি এই স্তরের গতিশীলতার ফল।
  • অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডল:

    • এটি কেন্দ্রমণ্ডলের গভীরতম অংশ।
    • এখানে চাপ এবং ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি।
ক্ষুব্ধমণ্ডল বা অ্যাসথেনোস্ফিয়ার (Asthenosphere):
  • সংজ্ঞা: শিলামণ্ডলের নিচে এবং গুরুমণ্ডলের উপরে অবস্থিত একটি অপেক্ষাকৃত কম ঘনত্বের স্তর।
  • বৈশিষ্ট্য:
    ১. গভীরতা আনুমানিক ৩০০ কিমি পর্যন্ত।
    ২. এই স্তর সান্দ্র পদার্থ দিয়ে গঠিত এবং এর চলাচলের ফলে ভূমিকম্প ও অগ্ন্যুৎপাত হয়।
    ৩. এই স্তরের শিলা অত্যধিক তাপ ও চাপে সান্দ্র অবস্থায় রয়েছে।
গুরুমণ্ডল (Mantle):
  • সংজ্ঞা: শিলামণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডলের মধ্যে অবস্থিত একটি স্তর, যা প্রায় ৪০ কিমি থেকে ২৯০০ কিমি গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত।
  • বৈশিষ্ট্য:
    ১. গভীরতা: ৪০-২৯০০ কিমি।
    ২. উপাদান: লোহা, সিলিকা, নিকেল।
    ৩. উষ্ণতা: প্রায় ৩০০০° সেলসিয়াস।
    ৪. ঘনত্ব: ৩.৪-৫.৬ গ্রাম/ঘন সেমি।

গুরুমণ্ডলের স্তরবিন্যাস:

  • ক্রোফেসিমা (CR+Fe+Si+Ma):

    • সংজ্ঞা: ৩০০-৭০০ কিমি গভীরতায় ক্রোমিয়াম, লোহা, সিলিকা, ম্যাগনেশিয়ামের আধিক্যযুক্ত স্তর।
    • বৈশিষ্ট্য:
      ১. অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্পের উৎস।
      ২. ঘনত্ব: ৩.১-৪.৭৫ গ্রাম/ঘন সেমি।
  • নিফেসিমা (Ni+Fe+Si+Ma):

    • সংজ্ঞা: ৭০০-২৯০০ কিমি গভীরতায় নিকেল, লোহা, সিলিকা এবং ম্যাগনেশিয়াম সমৃদ্ধ স্তর।
    • বৈশিষ্ট্য:
      ১. ভূমিকম্পের P তরঙ্গ এই স্তরে দ্রুত প্রবাহিত হয়।
      ২. ঘনত্ব: ৪.৭৫-৫ গ্রাম/ঘন সেমি।

এই স্তরগুলির মাধ্যমে পৃথিবীর অভ্যন্তর নিয়ে বিজ্ঞানীরা অনেক তথ্য জানতে পেরেছেন।

 ৪.অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত টীকা লেখ।

উত্তর: অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার হল ভূ-অভ্যন্তরের একটি স্তর, যা শিলামণ্ডলের নিচে এবং গুরুমণ্ডলের উপরের অংশে অবস্থিত। এটি অপেক্ষাকৃত কম ঘনত্ব এবং সান্দ্র উপাদান দ্বারা গঠিত।

বৈশিষ্ট্য:
১. গভীরতা: এটি ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০০-৩০০ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত।
২. গঠন: এই স্তরের শিলাগুলি অত্যাধিক তাপ ও চাপের ফলে আধা তরল বা সান্দ্র অবস্থায় থাকে।
৩. ভূমিকা: এর চলাচলের ফলে পরিচলন স্রোত সৃষ্টি হয়, যা প্লেট টেকটনিক ও ভূমিকম্পের মতো ভূ-প্রকৃতিগত প্রক্রিয়ার জন্য দায়ী।
৪. ভূকম্পীয় তরঙ্গ: ভূকম্পীয় তরঙ্গ এই স্তর দিয়ে ধীরগতিতে প্রবাহিত হয়।
৫. নামকরণ: এটি গ্রিক শব্দ "Asthenos" থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ "দুর্বল"।

এই স্তরটি পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গতিবিধির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

৫.পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগের বিভিন্ন স্তরের সচিত্র চিত্র অঙ্কন করো।

উঃ










<<<<<<<<<<<<🌹সমাপ্ত🌹>>>>>>>>>>>>>>>

👉For pdf whatsapp-8250978714

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.